সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত  » «   সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন হাসিনা  » «   টার্নিং পয়েন্ট খালেদার মামলা  » «   এবার সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত  » «   ভারতীয় স্কুলগুলোতে কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিলেন মানেকা গান্ধী  » «   প্রত্যাশিত দেশ গড়তে চাই কাঙ্খিত নেতৃত্ব : শিবির সেক্রেটারি  » «   ঢাবি সিনেটে বিএনপিপন্থীদের ভরাডুবির কারন ফাঁস !  » «   সিলেটের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন  » «   কবে, কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি?  » «   যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়  » «   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার  » «   এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি  » «   এমপিপুত্রের শেষ স্ট্যাটাস ‘তোর জন্য চিঠির দিন..’  » «   নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে ইসরাইলে লাখো জনতার বিক্ষোভ  » «  

বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান: নবীদের গ্রন্থ সমূহ, এবং কবিতা ও জ্ঞানের গ্রন্থ (4)

sirrul-520x245

ডাঃ মরিস বুকাইলি-

 অনুবাদঃ ওসমান রনি:

নবীদের গ্রন্থ সমূহ

এ শিরোনামে আমরা সেই সকল নবীর শিক্ষার বিবরণ দেখতে পাই, ওল্ড টেস্টামেন্টে যাদের মূসা, স্যামুয়েল, ইলিয়াস ও এলিশার ন্যায় বড় নবীদের থেকে আলাদা করে শ্রেনীভূক্ত করা হয়েছে। ’ঐ বড় নবীদের শিক্ষার বিবরণ অন্যান্য গ্রন্থে আছে।

নবীদের গ্রন্থে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম থেকে দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত ঘটনাবলীর বিবরণ আছে।

খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে আমোস, হোসিয়া, ইসাইয়া ও মিশাহ নবীর গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। আমোস নবীর গ্রন্থ সামাজিক অবিচারের নিন্দাবাদের জন্য বিখ্যাত। হোসিয়া তাঁর ধর্মীয় বিকৃতির জন্য পরিচিত। প্রকৃতি পুজারী সম্প্রদায়ের একজন সেবাদাসী অর্থাৎ পবিত্র বারবনিতাকে বিয়ে করতে বাধ্য হওয়ায় তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, জনগণ পাপাচারী হলে আল্লাহ যেমন কষ্ট পান, কিন্তু তবুও তাদের ভালোবাসেন, এ ব্যাপারটিও ঠিক সেরকম। ’ইসাইয়া একজন রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাক্তিত্ব। ’রাজা-বাদশাহগণ তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং সেইমত কাজ করেন। তিনি অতিশয় জাকজমকের সঙ্গে জীবন যাপন করেন। তাঁর নিজস্ব প্রচার কার্য ছাড়াও বিভিন্ন প্রশ্নের তিনি যে জবাব দিয়েছে, তাঁর মুরীদ্গণ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত তা প্রকাশ করেছেন। তাঁর শিক্ষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আল্লাহর বিচারকে ভয় করার কথা আছে। তিনি ইহুদীদের মিসর ত্যাগের পর মুক্তি লাভ এবং তাদের ফিলিস্তিনে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাও বর্ণনা করেছেন। দ্বিটিয় ও তৃতীয় ইসাইয়ার ক্ষেত্রে তাদের নবুয়াতির কার্য যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল, তা প্রায় দিবালোকের মতই স্পষ্ট। ইসাইয়ার সমসাময়িক মিশাহর শিক্ষাও মোটামুটি একই ধরনের ছিল।

খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে জেফানিয়াহ, জেরেমিয়াহ, নাহুম ও হাবাক্কুক তাদের ধর্মীয় প্রচার কার্যের জন্য খ্যাতি লাভ করেন। জেরেমিয়াহ শহীদ হন এবং বারুদ তাঁর শিক্ষা ও বানী সংগ্রহ করে একত্রিত করেন। বারুদ সম্ভবত বিলাপ (ল্যামেন্টেশন) এরও লেখক।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ইহুদীদের ব্যাবিলনে নির্বাসিত থাকার সময় নবীদের তৎপরতা বিশেষ ভাবে বৃদ্ধি পায়। তাদের মধ্যে ইজেকিয়েলের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ ছিল। তিনি তাঁর স্বধর্মীদের সান্তনা দিতেন এবং আশার বানী শুনাতেন। ওবাদিয়াহর গ্রন্থে বিজিত জেরুসালেমের দৈন্য দুর্দশা বর্ণনা করা হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ সালে নির্বাসন শেষ হওয়ার পর হাজ্ঞাই ও জাকারিয়া নবীর তৎপরতা শুরু হয়। তারা মন্দির পুননির্মানের আবেদন জানান। এ পুওনির্মাণ শেষ হওয়ার পর মালাচির নামে কিছু রচনা প্রকাশিত হয়। এ রচনাগুলি ছিল মূলত আধ্যাত্মিক বিষয়ের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

ওল্ড টেস্টামেন্টে উল্লেখযোগ্য কোন পাঠ না থাকা সত্ত্বেও ইউনুসের গ্রন্থকে যে কিভাবে নবীদের গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তাঁর কোন সঙ্গত কারণ খুজে পাওয়া যায় না। ইউনুসের গ্রন্থে যে প্রধান শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছার সামনে আত্মসমর্পন করার প্রয়োজনীয়তা।

ড্যানিয়েলের গ্রন্থ তিনটি ভাষায় লিখিত। হিব্রু, গ্রীক, ও আর্মায়িক। খ্রিস্টান সমালোচকগণ মনে করেন, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, এ গ্রন্থে সুসমাচার আছে বটে, কিন্তু তা বিশৃঙ্খল ও স্ববিরোধী। এ গ্রন্থ সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর মাকাবাইয়ান আমলের। ই জ্যাকোব মনে করেন যে, নাজাতের দিন অতি নিকটে, এ কথা বলে লেখক তাঁর স্বদেশবাসীর ঈমান রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।

কবিতা ও জ্ঞানের গ্রন্থ

এ শিরোনামে শ্রেনীবদ্ধ গ্রন্থগুলিতে প্রশ্নাতীত সাহিত্যিক সামঞ্জস্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে সামস (প্রার্থনা সঙ্গীত) এবং তা হিব্রু কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শনও। অধিকাংশ প্রার্থনা সঙ্গীতের রচয়িতা হচ্ছেন দাউদ। অবশিষ্ট গুলি বিভিন্ন পুরোহিতের রচনা। প্রার্থনা ও উপাসনায় ব্যবহৃত এ স্নগীতের বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রশংসা, ধ্যান, আরাধনা এবং আবেদন নিবেদন।

খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ থেকে ৫০০ সালের মধ্যে রচিত জবের (হযরত ইয়াউবের) গ্রন্থ জ্ঞান ও বিষয়ের উৎকৃষ্ট একখানি গ্রন্থ।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গোড়ার দিকে জেরুসালেমের পতনের পর বিলাপ (ল্যামেন্টেশনস) নামে যে গ্রন্থ রচিত হয়, তাঁর লেখক সম্ভবত জেরেমিয়াহই হবেন।

এছাড়া কয়েকখানি গ্রন্থের নাম পুনরায় উল্লেখ করা প্রয়োজন। সং অব সঙ্গস হচ্ছে ঐশীপ্রেমের রুপক সঙ্গীতের সংকলন, বুক অব প্রোভার্বস হচ্ছে সলোমন এর দরবারের অন্যান্য জ্ঞানী ব্যক্তিদের বানী সংগ্রহ এবং একলেজিয়াস্টস বাঃ কোহেলেথ হচ্ছে পার্থিব সুখ ও জ্ঞানের সারবত্ত সম্পর্কে গ্রন্থের সংকলন।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ে কমপক্ষে সাত শতাব্দী যাবত যা রচনা করেছেন, তা একত্রিত করে মিলিয়ে মিশিয়ে একখানিমাত্র গ্রন্থ বানানো হয়েছে। এ অবস্থায় এ গ্রন্থের একটি অংশ অপর অংশের পরিপূরকই বা হয় কেমন করে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত এ গ্রন্থকে পূর্নাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বলেই গণ্য করা হোল কেমন করে? কিন্তু তাঁর চেয়েও বড় কথা,”এ গ্রন্থখানিকে ইহুদী ও খ্রিস্টানদেড় অহীর গ্রন্থ’’ বলে গণ্য করা হয় কোন যুক্তিতে? কোন কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবশ্য এ ব্যাপারে কিছু মতপার্থক্য আছে কিন্তু মূল বিষয়ে বিরোধ তেমন প্রকট নয়। অদৃশ্য বিষয়ের ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে বলে গ্রীক ভাষায় এ গ্রন্থকে”ক্যানন” নামে অভিহিত করা হত।

এ রচনা সংগ্রহের সময় কিন্তু খৃস্টান আমলে শুরু হয়নি, হয়েছে ইহুদী আমলে। এবং প্রাথমিক কাজ সম্ভবত খৃস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতেই শুরু হয়েছিল। এ সংকলনের জন্য প্রথম পর্যায়ে কিছু গ্রন্থ বাছাই করা হয়েছিল। অবশিষ্ট গ্রন্থগুলি পরে যোগ করা হয়। তবে লক্ষনীয়, তৌরাত বাঃ পেন্টাটিউকের অন্তর্ভূক্ত পাচখানি গ্রন্থকে সর্বদাই শীর্ষ স্থান দেয়া হয়েছে। নবীদের ঘোষনা (অসদাচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শাস্তির ভবিষ্যদ্বানী) সত্যে পরিণত হওয়ার পর তাদের শিক্ষার বিবরণ মূল গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পথে আর কোন বাঁধার সৃষ্টি হয়নি। তাদের আশার বানীর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।, খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে নবীদের”ক্যানন” সুস্পষ্ট আকার লাভ করে।

উপাসনায় ব্যবহার করা হয় বলে সামস (প্রার্থনা সঙ্গীত) এর মত অন্যান্য গ্রন্থ ল্যামেন্টেশনস, বুক অব উইজডম ও বুক অব জবের মত গ্রন্থের সঙ্গে একীভূত করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে খৃস্টধর্ম ইহুদী ধর্মের সঙ্গে সংমিশিত ছিল। পরে আমরা দেখতে পাবো যে, কার্ডিনাল ডানিলোর মত আধুনিক সুপন্ডিত লেখক গণ এ সম্পর্কে ব্যাপকভাবে গবেষণা করেছেন। সাধু পলের প্রভাবে নতুন রূপ গ্রহণের আগে খৃস্টধর্ম ওল্ড টেস্টামেন্টের উত্তরাধিকার বিনা দ্বিধায় মেনে নিত। গসপেলের লেখকগণ ওল্ড টেস্টামেন্টের ধারা কঠোরভাবে মেনে চলতেন। কিন্তু পরে এপোক্রিফা (ধর্মীয় উপকথা) বর্জন করে গদপেল সংশোধন করা হলেও ওল্ড টেস্টামেন্টে তেমন কোন সংশোধন করা হয়নি। সেখানে প্রায় সবকিছুই বহাল রাখা হয়েছে।

মধ্যযুগের শেষভাগের আগে এ বিচিত্র সংকলনের বিরুদ্ধে আপত্তি করার মত সাহস অন্ততপক্ষে পাশ্চাত্য দেশে কারো ছিল না। একজনেরও না। মধ্যযুগের শেষভাগ থেকে বর্তমান যুগের শুরু পর্যন্ত সময়ে দু’একজন সমালোচককে সোচ্চার হতে দেখা যায়, কিন্তু গির্জা কর্তৃপক্ষ সর্বদাই তাদের স্তব্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে অবশ্য সমালোচনামূলক রচনার কোন অভাব নেই, কিন্তু ধর্মীয় বিশেষজ্ঞগণ বহু বিষয়ে সুগভীর গবেষণা করলেও তাদের ভাষায়”অসুবিধাজনক” বিষয়গুলির গভীরে যাওয়া থেকে তারা বিরত ক্তহেকেছেন। এমনকি তারা আধুনিক জ্ঞানের আলোকে ঐগুলি পরীক্ষা করে দেখতেও আগ্রহান্বিত হননি। ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে যেখানে বাইবেলের বিবরণের সদৃশ্য আছে, সেখানে তারা সে সাদৃশ্য প্রমাণ ও সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট মেহনত করেছেন, কিন্তুবাইবেলের বিবরণের সঙ্গে আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের তুলনা থেকে তারা সযত্নে দূরে থেকেছেন। কারণ তারা উপলব্ধি করেছেন যে, এরুপ তুলনা করা হলে সাধারণ মানুষ ইহুদী ও খৃস্টান ধর্মগ্রন্থের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করবে এবং প্রশ্ন উত্থাপন করবে। অথচ এ ধর্মগ্রন্থগুলি এতদিন যাবত সকল সন্দেহ ও সকল প্রশ্নের উর্ধে রয়েছে।

ওল্ড টেষ্টামেন্ট ও বিজ্ঞানঃ কতিপয় সাব্যস্ত সত্য

ওল্ড টেষ্টামেন্ট ও গসপেলে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা আধুনিক জ্ঞানলব্ধ তথ্যের বিরোধী। এ বিরোধীতা যখন বিজ্ঞানের সঙ্গে ঘটে, তখন দেখা যায় বিষয়গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা আগেই দেখেছি যে, বাইবেলে অনেক ইতিহাসগত ভূল তথ্য রয়েছে। ইহুদী ও খৃস্টান বিশেষজ্ঞদের উল্লেখিত এরুপ কয়েকটি ভুল আমরা উধৃতও করেছি। তারা অতিশয় স্বাভাবিক কারণে ভুলগুলিকে ছোট করে দেখিয়েছেন। কারণ তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে যে, ধর্মীয় লেখকগণ ধর্ম অনুসারেই ঐতিহাসিক তথ্য পেশ করেছেন এবং ধর্মের প্রয়োজন পূরণ করার জন্যই তারা ইতিহাস লিখেছেন। পরে আমরা দেখতে পাব যে, মথি (ম্যাথু) লিখিত সুসমাচারে (গসপেল) একইভাবে সত্যকে বিকৃত করা হয়েছে এবং সেই বিকৃতিকে সত্য বলে গ্রহণযোগ্য করার জন্য একই ধরনের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন পক্ষেই এ প্রক্রিয়া মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

যুক্তির ভিত্তিতে বিবেচনা করা হলে বহু স্ববিরোধিতা ও অসম্ভাব্যতার সন্ধান পাওয়া যাবে। একটি ঘটনার বিবরণ লিখতে গিয়ে বিভিন্ন লেখক যদি বিভিন্ন উৎসের ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে একই ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বর্ণিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয় এবং কোন কোন বিশেষজ্ঞ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েও দিয়েছেন যে, একই ঘটনার একাধিক রুপান্তর করা হয়েছে, মূল বর্ণনায় পরে সংযোজন করা হয়েছে এবং প্রথমে ব্যাখ্যা লিখে পরে তাঁর জন্য মূল বর্ণনা প্রস্তুত করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ তৌরাতের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, ফাদার দ্য ভক্স তাঁর জেনেসিসের তরজমার ভূমিকায় (১৩-১৪ পৃষ্ঠা) এরুপ বহু অসঙ্গতি ও স্ববিরোধিতার উল্লেখ করেছেন। পরে আমরা কয়েকটি নমুনা পেশ করব। তবে মূল বর্ণনা পড়ার পর পাঠক যদি মনে করেন যে, পঠিত বিষয় আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাহলে তাকে বোধহয় খুব দোষ দেয়া যাবে না। আপাতত আমরা কয়েকটি নমুনা পেশ করছিঃ

জেনেসিসে (৬.৩) বলা হয়েছে, বন্যার ঠিক আগে আল্লাহ স্থির করলেন যে, মানূষের জীবনকাল অতঃপর একশত বিশ বছর সীমাবদ্ধ হবে-”তাহার হায়াত একশত বিশ বয়সর হইবেক।” কিন্তু পরে আবার ঐ জেনেসিসেই (১১.১১, ১০.৩২) দেখা যাচ্ছে যে, নূহের দশ জন আওলাদের হায়াত ১৪৮ থেকে ৬০০ বছর পর্যন্ত হয়েছে (পরে সংযোজিত তালিকায় ইব্রাহীম পর্যন্ত নূহের দশজন আওলাদের হায়াতে দেখুন) । এ দুটির বর্ণনায় অসঙ্গতি খুবই স্পষ্ট। কিন্তু তাঁর কারণ কি? কারণ হচ্ছে এই যে, প্রথম বর্ণনাটি (জেনেসিস ৬, ৩) খৃস্টপূর্ব দশম শতাব্দীর ইয়াহভিষ্ট গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয় বর্ণনাটি (জেনেসিস ১১, ১০-৩২) নেয়া হয়েছে খৃস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর স্যাকারডোটাল সংস্করণ থেকে। এ সংস্করনটিই হচ্ছে নসবনামার মূল উৎস। প্রত্যেক পয়গম্বরের হায়াত এ নসবনামায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে বটে কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে ব্যাপারটি অসম্ভব বলে মনে হবে।

চলবে

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ