সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত  » «   সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন হাসিনা  » «   টার্নিং পয়েন্ট খালেদার মামলা  » «   এবার সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত  » «   ভারতীয় স্কুলগুলোতে কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিলেন মানেকা গান্ধী  » «   প্রত্যাশিত দেশ গড়তে চাই কাঙ্খিত নেতৃত্ব : শিবির সেক্রেটারি  » «   ঢাবি সিনেটে বিএনপিপন্থীদের ভরাডুবির কারন ফাঁস !  » «   সিলেটের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন  » «   কবে, কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি?  » «   যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়  » «   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার  » «   এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি  » «   এমপিপুত্রের শেষ স্ট্যাটাস ‘তোর জন্য চিঠির দিন..’  » «   নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে ইসরাইলে লাখো জনতার বিক্ষোভ  » «  

জীবন এবং জীবের অস্তিত্ব

182042_167অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ তাহির ও এ টি ম আতাউর রহমান:  জীবন ও পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব সম্বন্ধে আলোচনা করতে হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে :
জীবন কী? জীবনের সংজ্ঞা কী? মৃত্যুপরবর্তী জীবন সম্বন্ধে ধর্মবিধ এবং পণ্ডিতদের ধারণা। উপসংহার।
জীবন কী? অর্থাৎ জীবনের সংজ্ঞা কী?
জীবনের সংজ্ঞা সম্পর্কে আমাদের সঠিক কিছু জানা নেই। তবে জীবনের লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বংশ বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেমন : পুষ্টি, রেচন শরীরে তাপমাত্রা রক্ষা করা। এ গুণগুলো যে পদার্থের মধ্যে আছে তাকে আমরা জীবিত বলে মনে করি। একটি জড় পদার্থের সাথে জীবিত সত্তার সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। যেমন : জড়বস্তু বাইরের কোনো বল প্রয়োগ ছাড়া অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে না। এখানে তাওরাতপ্রাপ্ত নবী হজরত মুসা আ: সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে। আল্লাহ তায়ালা মুসা আ:-কে তাঁর হাতের লাঠি নিক্ষেপ করতে বললেন এবং তা সাথে সাথে আল্লাহর হুকুমে একটি চলন্ত সাপ হয়ে গেল। বাদশা ফেরাউন ও তার সহচররা এটাকে জাদু বলে ব্যাখ্যা করলেন। এ ব্যাপারে আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারি। আমরা প্রায় দুই-তিন শতাব্দী আগে অণুবিক্ষণযন্ত্র এবং আরো পরে Electron Microscope যন্ত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হই। এতে জানা গেল প্রত্যেক পদার্থ অসংখ্যা অণু-পরমাণু নিয়ে গঠিত। পরমাণুর কেন্দ্রে আছে পজিটিভ চার্জবিশিষ্ট প্রোটন। নেগেটিভ চার্জবিশিষ্ট ইলেকট্র্রন কেন্দ্রে অবস্থিত প্রোটনের চার দিকে অবিরাম ঘুরছে। এর জন্য বাইরে থেকে কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় না। যে বল ঘূর্ণনের জন্য দায়ী তাকে আমরা বৈদ্যুতিক শক্তি বলি। বিদ্যুতের বেগ মুসা আ:-এর লাঠি সাপ হওয়ার বেগের চেয়ে বহুগুণ বেশি। কাজেই বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে এ সাপের গতিকে কেমন করে খণ্ডন করতে পারি?
প্রাথমিক স্কুলে শেখানো একটি প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এবার আলোচনা করব। জ্যামিতি শাস্ত্র মতে, বিন্দু এর কোনো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা নেই। বিন্দুকে কোনো সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে তার ফলাফল হয় শূন্য। কিছু রেখার সংজ্ঞা হয়েছে অসংখ্য বিন্দু দিয়ে একটি রেখা তৈরি হয়। এটা গাণিতিক সত্যের সাথে সামঞ্জস্যহীন।
কোনো রোগী জন্ডিসে আক্রান্ত হলে সে সাদা জিনিসকে হলুদ দেখে। এত অল্প পরিমাণ বিলিরুবিন, যা আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে অকেজো করে ফেলে। তাই এ দৃষ্টিশক্তি মহা সত্য জানার জন্য কেমন করে সহায়ক হতে পারে? কানের পর্দা ফেটে গেলে শ্রবণ শক্তি অনেকাংশে ব্যাহত হয়। দেহ ত্বক আমাদের স্পর্শ, ব্যথা-বেদনা এবং গরম-ঠাণ্ডার অনুভূতি দেয়। Laprosy (কুষ্ঠুব্যাধি) এ শক্তিকে আংশিক ও সামগ্রিকভাবে নষ্ট করে ফেলতে পারে। এ Laprosy যে জীবাণু দিয়ে হয় তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না।
বোধ শক্তি মস্তিষ্কের কাজ। আমরা দেখি যে, স্পর্শ ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় ঠিকমতো সংবাদ না পাঠালে এর বোধশক্তি অকেজো হয়ে পড়ে। এ বিকৃতি আবিষ্কার করার জন্য সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও অন্য কোনো আধুনিক যন্ত্রের কার্যকারিতা আমাদের জানা নেই। ধরুন, আপনার বাড়ির পোষা কুকুরটি হারিয়ে গেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ পরে কুকুরটি রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ফিরে এলো। কুকুরটি যখন ঘেউ ঘেউ করে শব্দ করবে, তখন শুধু তার মালিকই তার নিজের কুকুরের আওয়াজ বলে বুঝতে পারবে। যদি তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে, আপনি যে আওয়াজ দ্বারা আপনার কুকুর বলে বুঝতে পারলেন সে সংবাদ কি কুকুরের মালিক আপনাকে দিতে পারবে? আবার একজন শিক্ষক Pudding সম্পর্কে লম্বা-চওড়া বক্তৃতা করেছেন, এর স্বাদ বোঝানোর জন্য। ক্লাসের একজন বোকা শিক্ষার্থীও আপনাকে বলতে পারে, Sir, the taste of Pudding is the eating অর্থাৎ জিহ্বায় একটু পুডিং দিলে এটার স্বাদ বোধগম্য হয়ে যাবে।
একজন অন্ধ এবং একজন লেংড়া লোকের মধ্যে এক চুক্তি হলো। অন্ধ লোকটি বলল, তুমি আমাকে ঘাড়ে করে নিয়ে চলো, যাতে আমি খুব ইনিয়ে-বিনিয়ে ভিক্ষা চাইতে পারি। অতঃপর লেংড়া লোকটিকে বলল যে, অমুক বাড়িতে শিরনি পাকানো হচ্ছে বলে আমি ঘ্রাণ পাচ্ছি। তুমি সে বাড়িতে আমাকে নিয়ে চলো। তখন অন্ধ লোকটি জিজ্ঞাসা করল, শিরনি বা পায়েস এটা কী জিনিস? উত্তরে বলা হলো, এটা দুধ, চিনি ও চাল দিয়ে তৈরি সুস্বাদু খাবার। তার উত্তরে অন্ধ লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল, দুধ জিনিসটা কী? উত্তরে বলা হলো, দুধ বকের মতো সাদা এবং বকের আকৃতি বোঝানো জন্য তার হাতকে বকের মাথার মতো বাঁকা করে অন্ধের সামনে ধরল। অন্ধ বাঁকা হাতটি স্পর্শ করে জানাল যে, এ রকম বাঁকা দুধ আমার গলা দিয়ে যাবে না। সুতরাং এ দাওয়াতে আমি যাবো না। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিরক্ষর এবং বোকা মুসলিমদের বোঝানো হচ্ছে, এ বাঁকা দুধরূপী ইসলাম আসলে আধুনিক যুগে অচল!
আফসোস, আমাদের মতো তথাকথিত মুসলিম নামধারী এবং পরকালে অবিশ্বাসীর জন্য পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এ সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র, পৃথিবী সবই আল্লাহর সৃষ্টি (আয়াত : সূরা বাকারা-২৫৫)। আজ পর্যন্ত আমাদের জানা মতে পৃথিবীসহ সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্রের সৃষ্টির দাবিদার নেই। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি যে, সত্যিই যদি এ কুরআন আল্লাহর বাণী হয়ে থাকে তাহলে একে অবিশ্বাস করার যে দুঃসাহস দেখাচ্ছ তার প্রতিফল কী ভয়ঙ্কর হতে পারে।’
‘আর যারা বলে, আল্লাহ আমাদের রব এবং এর উপর সর্বাবস্থায় অবিচলিত থাকে। তাদের কাছে ফেরেশতারা এসে বলে কোনো ভয় নেই এবং কোনো চিন্তাও নেই। তোমরা আনন্দিত হয়ে যাও। কারণ সে জান্নাতেই তোমাদেরকে দেয়া হবে যার ওয়াদা তোমাদেরকে করা হয়েছে। পার্থিব জীবনেও আমি (্আল্লাহ) তোমাদের সাথে ছিলাম এবং পরকালীন জীবনেও আমি তোমাদের সাথে থাকব।’ সূরা হা মিম সেজদার ৩৮-৪১ আয়াত, তফসিরে তাওহিদুল কুরআন মুফতি মো: ত্বাকি ওসমানী।
আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সা:-কে ইহজগতে এ কুরআনের সত্যতা সম্পর্কিত দালিলিক প্রমাণাদি যথাÑ সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি মানুষের চোখের সামনেই দৃশ্যমান। এর পরও আমার (আল্লাহর) নিদর্শনাবলি তোমার (মুহাম্মদ সা:) অস্তিত্ব এবং আশপাশের এলাকার মধ্যে বিদ্যমান। কুরআন বাহকের এ সত্যতা ইতিহাস দ্বারা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। মক্কার কাফের বা মুশরেকরা বদর যুদ্ধ থেকেই এ নিদর্শনাবলি দেখতে শুরু করেছে এবং বিস্ময়করভাবে কুরআনের ভবিষ্যৎদ্বাণী মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রা:-এর সময় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।
এক দিকে পারস্য, অন্য দিকে রোম সাম্রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড মুসলিম শাসনাধীনে এসে গেছে। এ সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে একজন অবিশ্বাসী অমুসলিম ইতিহাসবিদ বলেছেন, ‘এ বিরাট বিজয়ের ব্যাখ্যা জানা মুসলমানদের জন্য খুবই সহজ। কারণ তারা আল্লাহর অস্তিত্ব ও সাহায্যে বিশ্বাস করে।’
আমাদের মতো আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসীর জন্য এর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানা খুবই কঠিন। গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি যে, এত অল্প সময়ে এ বিজয় কিভাবে সম্ভব হয়েছে তার জবাব আমাদের কাছে নেই। তাই বলতে বাধ্য যে, মোহাম্মদ সা: মক্কায় ইসলামের একটি দ্বীপশিখা জ্বেলেছিলেন এবং আরবের লুহাওয়া এটাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে।

লেখক : প্রফেসর ডা: মো: তাহির, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও এ টি ম আতাউর রহমান, প্রাক্তন সচিব, বাংলাদেশ সরকার

নয়া দিগন্ত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ