বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করবে ওআইসি  » «   অভিশপ্ত চেয়ার: বসলেই মৃত্যু নিশ্চিত  » «   আমেরিকায় গিয়ে জঙ্গি হয়েছে আকায়েদ: পুলিশ  » «   সেনা চৌকিতে ধরা পড়া সেই ৭ ডিবি বিচারের মুখোমুখি  » «   মুসলমান কেন নির্যাতিত হচ্ছে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা. এর ভবিষ্যদ্বাণী  » «   সিলেটে যে অস্ত্রে কাবু রাজনীতিকরা  » «   আমেরিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা  » «   ১৫৪ এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত, এটা কি গণতন্ত্র: প্রশ্ন বি. চৌধুরীর  » «   শিবির তাড়িয়ে ওসমানী মেডিকেলে ছাত্রাবাসের কক্ষ দখলে নিল ছাত্রলীগ  » «   আমেরিকায় বন্ধ হচ্ছে পারিবারিক চেইন ভিসা!  » «   শৃঙ্খলা বিধিমালায় খর্ব হয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা  » «   ফের বৃটেনের ভ্রমণ সতর্কতা, জনসমাগমে হামলার শঙ্কা  » «   ফাতাহ ও হামাসকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান পুতিনের  » «   টঙ্গীতে প্রবাসী দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা  » «   ‘তন্নতন্ন করেও জামায়াত-শিবিরকে ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নের প্রমাণ পাইনি’  » «  

সঙ্গবদ্ধ জীবন-যাপনের প্রয়োজনীয়তা

images

তাসনীম মোহাম্মাদ : Human Phycology’র Culture এর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, পৃথিবীর সেই শুরু থেকে মানুষ সাধারণত সঙ্গবদ্ধ ভাবে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। পাহাড়ের গুহায়, বনে-জঙ্গলে, লোকালয়ে যেখানেই হোক না কেন মানুষ তার আত্মীয়, সঙ্গী-দল-গোষ্ঠী ইত্যাদির সাথে একত্রে বসবাস করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। যা আজকের আধুনিক বিশ্ব গড়ে ওঠার ক্রমান্বিত Stage যথারীতি প্রবাহমান। একটি পরিবার, গোষ্ঠী-গোত্র, সমাজ, রাষ্ট্রের সাফল্যের অন্যতম কারন হল এই Unity। শুধু মনুষ্য সমাজে কেন- যদি খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমরা অন্যান্য জীব-জগতের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব— Biologically তাদের মধ্যেও Unity বিদ্যমান। যেমন ধরুন, বৃক্ষরাজির মধ্যে বাঁশের নিজস্ব ঝাড় দেখতে পাওয়া যায়। বিক্ষিপ্ত কিছু বাগানকে বাদ দিয়ে বিশ্বের একমাত্র Mangrove সুন্দরবনের দিকেও যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব, গোল গাছের সারিতে গোল গাছ, কেওড়ার সারিতে কেওড়া। তার মানে প্রত্যেক প্রজাতি গাছের মধ্যেও ঝোঁপ-ঝাড় বা দলগত অবস্থা অর্থ্যাৎ Organic Unity দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি বন্য প্রাণী, জীব-জন্তুর মাঝেও পারিবারিক ঐক্য (Familiar Unity) পরিলক্ষিত হয়। অথচ; বর্তমান সময়ে পশ্চিমা মদদপুষ্ট কিছু কিছু রাষ্ট্রে Ultra Modernization এর নামে পরিবারের সঙ্গবদ্ধতাকে অস্বীকার করে ব্যক্তি কেন্দ্রিক পারিবারিক (Person wise Familiar) জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধকরণ করা হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্বসহ ইউরোপে গজিয়ে ওঠা এই Fashion এর ফলস্বরূপ আজ পর্যন্ত সেসব দেশের মানুষের মধ্যে একাকীত্ব, বিষণ্নতা, খুন-রাহাজানী, ছিনতাই, ধর্ষণ, মাদকতা, অবাধ যৌনাচার, সমকামিতা, লিভ টুগেদারসহ বিভিন্ন ধরনের Crime Grow করেছে। তাদের পারিবারিক বন্ধন (Family Unity) ভেঙ্গে খান খান হয়েছে। যে কারনে In Recently তারা তাদের পারিবারিক কাঠামো (Familiar Structure) কে Build up করতে রীতিমত নানান ধরণের পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করছে। অথচ; পশ্চিম এবং ইউরোপের ফেলে দেওয়া উক্ত Dust Fashion টি এশিয়ার Development Country গুলোতে ব্যাপকভাবে Spread করছে; সুসভ্য এশিয়াবাসীর সুদৃঢ় পারিবারিক কাঠামোতে (Familiar Structure) মহামারী আকারে চিড় ধরছে। আমরা জানি, Nucleus কে কেন্দ্র করে Electron- Proton- Nutron ঘোরে। এর মাধ্যমেই পরমাণু, অণু, বস্তুর সৃষ্টি। -অর্থাৎ এখানেও ঐক্যবদ্ধ পরিবার। অতএব বোঝা যায় যে,Ñ ঐক্যবদ্ধ পরিবার অথবা সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের প্রধানকে কেন্দ্র করেই সুশৃঙ্খল এবং সামাঞ্জস্য পরিবেশ গড়ে ওঠে। আর এ শৃঙ্খলতার মাধ্যমে ব্যক্তির মাঝে সততা, নির্ভীকতা, বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, ন্যায়-নীতি, শিষ্টাচার, সামাজিকতা, রাজনীতি ইত্যাদির সুউচ্চ শিক্ষণ গড়ে ওঠে। যা একটি বিকাশমান জাতি গঠনে বিশেষ ভুমিকা রেখে জাতির সভ্যতা- ঐতিহ্যকে বিকাশমান করে। দাদা-বাবা-পুত্রের সমন্বয়ে সংগঠিত জোটবদ্ধ পরিবার আজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবারে পরিণত হচ্ছে। ফলে পারিবারিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক তথা আর্থ-সামাজিক পারস্পরিক স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা, বিশ্বাস-ভক্তি, শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষের জোটবদ্ধ সম্পদ ভাগ হয়ে যাচ্ছে- উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে; ফলে আয় কমে যাচ্ছে। সুতরাং অভাব-দারিদ্র্য, রোগ-শোক, জীর্ণতায় ভুগে মানুষ দিন দিন হতবুদ্ধি, অলস, কর্মহীন হয়ে পড়ছে। উপরন্তু; শিল্পায়ন- নগরায়নের অসম যাতাকলে পিষ্ট হয়ে কেবল শিয়াল-কুকুরের মত সকাল  হলেই জীবিকার অন্বেষণে অহরহ ছুটছে আর রাতের বেলা ক্লান্তি-শ্রান্তি নিয়ে কোন রকম সন্তান উৎপাদনের কাজ সেরে ঘুমিয়ে পড়ছে। যার দরুন পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সব ধরণের দৃঢ়তা অন্তঃসার শূণ্য হয়ে পড়ছে।
Human child জন্ম নেওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে জীবনকে এগিয়ে নেয়। শিশু তার মা-বাবা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-চাচী, ফুফু-খালা, ভাই-বোনদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে Social being হয়ে ওঠে। কোন একটি পরিবার হল শিশুর সুষ্ঠ বিকাশের সবচেয়ে বড় পাঠশালা। –এ পাঠশালা থেকেই সে তার জাতীয় জীবনের ভুমিকাকে Definite করে তোলে। কেবল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের ভেতর-ই নয়; জগতের অন্যান্য জীবের মধ্যেও এই Natural Teaching methods লক্ষ্য করা যায়; যার মাধ্যমে তাদের খাদ্যাভ্যাস (Eating habits) এবং বসবাসের চরিত্র (Residence of character) ফুটে ওঠে। Medical Science এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী সমাজের যে সকল পরিবারের শিশুরা উল্লিখিত বন্ধন সমূহের সাহচর্য থেকে বঞ্চিত তারা তাদের মানসিক বিকাশ (Emotional Development); এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে শারীরিক বর্ধন ও বিকাশে বাধা প্রাপ্ত হয়ে প্রতিবন্ধী জীবনের চক্রে আবর্তিত হয়। এছাড়াও তারা বিভিন্ন ধরণের মনোঃবিকার (Psycho-pathology) এবং সামাজিক অপরাধে (Social Crime) জড়িয়ে পড়ে। এখন স্বভাবতঃ প্রশ্ন আসতে পারে, সমাজের সঙ্গবদ্ধ জীবন চরিত্র ভেঙ্গে যাওয়ার কারন কি? এর পিছনে রয়েছে বহুবিধ সমস্যার জটিল চক্র; যার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দিক আমরা আলোকপাত করতে পারি। যথা :
১.     অপরিকল্পিত শিল্পায়ন-নগরায়ণ মানুষকে ক্রমাগত শহরমুখী করে তুলছে। কর্মের তাগিদে মানুষ শহরে ছুটছে; যত্রতত্র জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পারিবারিক মূল্যবোধকে (Family values) হারিয়ে ফেলছে।
২.    ব্যাপক দারিদ্র্যতা পারিবারিক বন্ধন শিথিলের Fundamental cause হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।
৩.     সকল শ্রেণীর মানুষ কাজ চায়; বিশেষ করে যুবশ্রেনী। কাজের সন্ধানে মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে Migrate হতে হয়। ফলে Family Unity week হয়ে পড়ছে ।
৪.     যদিও বলা হয়ে থাকে ‘Education is the backbone of a nation’ তথাপি; শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এবং প্রায়োগিক ক্ষেত্রের সাথে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় সাধন না হওয়ায় Educational values নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে Moral values ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; যা পারিবারিক বন্ধনে কুঠারাঘাত করছে।
৫. প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের দোলায় পরিবর্তিত মনুষ্য মগজে Capitalism এর চিন্তার লালন; মানুষকে তার Real Duty থেকে বিচ্যুত করে ফেলছে। মানুষ Eat; drink be marry… এই Culture এ নিমজ্জিত হয়ে তারা তাদের পরিবারের Tradition কে Ignore করছে।
৬.     কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, জোটবদ্ধ পরিবার থেকে বের হয়ে ক্ষুদ্র পরিবার গঠন করা কতক মানুষের কাছে Fashion এ পরিণত হয়েছে। এ Fashion কে তারা Ultra Modernization বলে মনে করছে।
৭.    Psychologist দের মতে, পরিবার ভাঙন প্রক্রিয়াকে যারা স্বাভাবিক নিমিত্তে গ্রহণ করছে এবং এর স্বপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করছে তাদের এটা একটি Social disease বৈ- আর কিছু না।
৮.     স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো পৃথিবীকে যেমন মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে; তেমনি আবার অপ-সংস্কৃতির সয়লাবে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ফলে সকল স্তরের মানুষের মাঝে অসভ্যতা-নোংরামী-কূট-কৌশল যেন Cancer এ পরিণত হয়েছে। যা পারিবারিক সংহতি স্থাপনের অন্যতম প্রতিবন্ধক।
৯.     যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে তৈরি হয়েছে Generation gap. এই gap পারিবারিক বন্ধনের পারষ্পারিক সুষম সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে ভালো-মন্দ, শ্রদ্ধা-ভক্তি, স্নেহ-প্রীতি, মান্য-অমান্যের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ছে।
১০. কোন একটি পরিবার কিংবা জাতির আভ্যন্তরীণ মজবুতী নির্ভর করে সে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার স্থিতি শীলতার উপর। যখন কোন পরিবার কিংবা সমাজে এ স্থিতি Fail করে তখন শুরু হয় ভাঙনের; তা সে পরিবারে হোক কিংবা সমাজ-রাষ্ট্রে।
১১. সঙ্গবদ্ধ জীবন-যাপনে বাধা প্রাপ্ত সবচেয়ে আশঙ্কার যে জায়গাটি সেটি হল ধর্মীয় অনুভূতির অভাবের ব্যাপকতা। সেই প্রবাহমান কাল থেকে মানুষ তার যাবতীয় প্রয়োজনের সাথে Religious values কে Model হিসেবে গণ্য করে আসছে। ব্যক্তি থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র, সবখানে যখন এ values এর value কমেছে তখন মান্য-অমান্য, বাদ-অনুবাদ, আনুগত্যের দ্বন্ধে জড়িয়ে শুরু হয়েছে  Family breakdown, Social breakdown, State breakdown.
উল্লিখিত কারণ সমূহ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মাদকতা, অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থা, চিত্ত-বিনোদনের অভাব, বিজ্ঞানের অনগ্রসরতা, গ্রামীণ জীবনকে ছোট করে দেখা, জৈবিক আচরণের তারতম্য ইত্যাদি ব্যক্তিক এবং সামাজিক সমস্যা মানুষের সঙ্গবদ্ধ জীবন-যাপনের অন্তরায়।
মানব জীবনে সঙ্গবদ্ধতায় উক্ত সমস্যাসমূহের প্রভাব এতো বেশি যে, মানুষ তার প্রকৃত কর্তব্য পালনে উদাসীন হয়ে পড়ছে। ফলে সমাজ জীবনে আরো কিছু অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। যা মহামারী আকারে জীবন বৈচিত্র্য ধ্বংসে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যে সমস্যাসমূহ ব্যাপকাকার ধারণ করছে তার মধ্যে শিশুর বিকাশ ব্যাহত হওয়া, শিশু নিবাস গড়ে ওঠা, কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়া, পারিবারিক ভাঙ্গন-দ্বন্ধ-কলহ বৃদ্ধি পাওয়া, বৃদ্ধাশ্রম গড়ে ওঠা, অসামাজিক কার্যকলাপ- পরকীয়া-আত্মহত্যা
বেড়ে যাওয়া, একাকীত্ব-বিষন্নতা-হতাশার সৃষ্টি হওয়া, ভবঘুরে-বেকার-ভিক্ষুক-বস্তি সমস্যার জটিল আকার ধারণ করা, মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক সঙ্কট-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রকট আকার ধারণ, ধর্মীয় মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাওয়া, সম্পদের অপব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া, সামাজিক ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, সর্বোপরি জাতিগত দুর্বলতা অন্যতম।
এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত সমস্যাবলীর সমাধানে এবং আমাদের জাতিগত সমৃদ্ধি অর্জনে পরিবার থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের ব্যক্তিগত এবং সরকারিভাবে সুদূরপ্রসারী কতক পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং তার বাস্তবায়ন একান্ত্য আবশ্যক। যেমনÑ
১.     সঙ্গবদ্ধ জীবন-যাপনের সুফল নিয়ে আলাপ-আলোচনা, বক্তব্য, ক্যাম্পেইন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, র‌্যালি ইত্যাদির আয়োজন করা যাতে মানুষ সচেতন হতে পারে।
২.     সঙ্গবদ্ধ জীবন-যাপনে পারিবারিক মূল্যবোধ-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির বিশেষত্বের প্রতি গুরুত্বআরোপ করে বই-পুস্তকে কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ সংজোযন করা; পাশাপাশি টিভি-রেডিওতে টকশো, নাটক, ছায়াছবির মধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরা।
৩.     বড়বড় শিল্প কারখানার সাথে সমন্বয় রেখে ব্যাপকভাবে কুঠির শিল্পের (Cottage Industry) সম্প্রসারণ করা। যাতে মানুষ নিজ নিজ এলাকা-অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
৪.    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মমুখর প্রতিষ্ঠানসমূহকে দেশের বিভিন্ন বিভাগকেন্দ্রিক বিকেন্দ্রীকরণ। যাতে মানুষকে শিক্ষা এবং কর্মের গুণগত সেবা পেতে নিজ নিজ এলাকা-অঞ্চল ছেড়ে যেতে না হয়।
৫.     সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। Transparency International এর সমীক্ষানুযায়ী এ দেশের ৯০% সম্পদ ১০% মানুষের হাতে কুক্ষিগত এবং বাকী ১০% সম্পদ নিয়ে ৯০% লোক মানবতার জীবন-যাপন করছে। ফলে ভাগ্যের উন্নয়নে মানুষ স্থানান্তরিত হচ্ছে।
৬.     পরিবার পদ্ধতিকে সুসঙ্গবদ্ধ করতে মুসলিম পারিবারিক আইন-১৯৮৫ এবং শিশু আইন-১৯৭৪ এর সংশোধন করে প্রবীণ পিতা-মাতা  এবং শিশুর অধিকারকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন ধারা সংযোজন করতে হবে; যাতে করে কেউ প্রবীণ পিতা-মাতাকে  “Old age home” এবং শিশুদেরকে “Child care home” এ পাঠাতে না পারে।
৭.    প্রতিটি ধর্মের Religious values কে জাগ্রত করতে হবে। পৃথিবীর সেই আদিম কাল থেকে ধর্মই একমাত্র “Spiritual power” যার মাধ্যমে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ত্যাগ, শিশু-কিশোরদের প্রতি অনীহাসহ যাবতীয় অন্যায়-অনাচার দূর করতে পাপবোধকে জাগ্রত করে।
৮.     শিক্ষা অর্জনের মূল উদ্দেশ্য হল,- ‘মানুষ হিসেবে মানুষের সত্যকার মানুষ হয়ে ওঠা’। শিক্ষার ভুমিকা-পরিচয় দিতে গিয়ে মনীষী মিল্টন বলেছেন,— “Education is the harmonious development of body mind & soul”। অতএব প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ধর্ম ভিত্তিক বাস্তবসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কারিগরি শিক্ষাকে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
৯.     যে কোন দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সুদৃঢ় উন্নয়নে সে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত আবশ্যক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া কোন দেশের কোন প্রকার বন্ধন সুদৃঢ় রাখা সম্ভব নয়।
১০. কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের মনে রাখা দরকার কৃষিই হল একমাত্র শিল্প যা মানুষের প্রথম এবং প্রাথমিক মৌলিক চাহিদা পূরণের অকৃত্রিম বান্ধব। যার উন্নয়নে জোটবদ্ধ জমি আর জোটবদ্ধ জমির প্রয়োজনে সঙ্গবদ্ধ জীবন-যাপন একান্ত্য আবশ্যক।
১১. চিত্ত-বিনোদনের মাধ্যমকে সৃজনশীলতার মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এক্ষেত্রে কবি-সাহিত্যিকদের অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে। কেননা অপ-সংষ্কৃতি মানুষের স্বাভাবিক নৈতিকবোধকে বিলুপ্ত করে দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ