বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
শেখ হাসিনার ‘ফটোজেনিক মেধাবী’ জিনিসটি আসলে কী?  » «   সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হবে : শিবির সভাপতি  » «   খালেদার বক্তব্য বিকৃত করে রায় দিয়েছেন আখতারুজ্জামান!  » «   একজন ভাষাসৈনিক গোলাম আজম এবং আমার ভাবনা  » «   আগামী বছর নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি  » «   ধনীদের আরো বেশি কর দেয়া উচিত: বিল গেটস  » «   খালেদা ভোটের যোগ্যতা হারালে কিছু করার নেই: কাদের  » «   তারেকের স্ত্রী, কন্যার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনের খবর  » «   খালেদার জামিন আবেদনের আগেই কপি চান অ্যাটর্নি জেনারেল  » «   ব্যাংকে জালিয়াতির কোনো ঘটনায় ছাড় দেয়া হয়নি: তোফায়েল  » «   বাংলাদেশকে কেউ আর অবহেলার সাহস পায় না: প্রধানমন্ত্রী  » «   বাসের ধাক্কায় ৪ অটোযাত্রী নিহত  » «   ২১ গুণীজনকে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ভারতের দুর্ভাগ্য যে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় আছে: মমতা  » «   খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি বৃহস্পতিবার  » «  

তিন দিন ধরে ছেলের কাঁধে মা

334982_1

দশ মাস দশ দিন ছেলেকে গর্ভধারণ করেছেন মা। বয়সের ভারে সেই মামতাময়ী মা এখন হাঁটতে পারেন না। মিয়ানমারে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে সবাই যখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন তখন তো একশ বছরেরও বেশি বয়সী সেই মা নিরূপায়। কিন্তু নাড়ি ছেঁড়া ধন ছেলে কিভাবে মাকে ফেলে আসবেন। সামনে ভয়াবহ বিপদ জেনেও মাকে কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়া হয়েছেন ছেলে মোহাম্মদ আলম (৩৫)।

তিন দিন মাকে কাঁধে নিয়ে তিনি বুধবার নাফ নদী পার হয়ে টেকনাফ এসেছেন। শাহপরী দ্বীপ বাজার এলাকায় রোহিঙ্গাদের ঢলের মাঝে দেখা হয় আলম ও তার মা ছবিলার সঙ্গে।

মাকে কাঁধে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত আলম। কিন্তু চোখে-মুখে ক্লান্তির প্রকাশ নেই। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে, পরম মমতায় মাকে আগলে নিয়ে একটি চেয়ারে বসতে দেন। এক পর্যায়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন তিনি।

কান্না থামছেই না, কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকনে, ঘর-বাড়ি সব সেনাবাহিনী জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরিরবারের ১৬ সদস্যকে নিয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। সবাই হেঁটে আসতে পারলেও মাকে কিভাবে আনবেন চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়েন। মাকে তো আর মৃত্যুর মুখে ফেলে আসতে পারেন না। এক পর্যায়ে মাকে কাঁধে নিয়েই রওয়ানা দেন বিপদসঙ্কুল দীর্ঘ পথ। তিন দিন জঙ্গল-পাহাড় পাড়ি দিয়েছেন মাকে কাঁধে নিয়েই।

বললেন, ‘মাঝে মাঝে আর পা দুটো চলতে চাইছিল না। কিন্তু মাসহ পরিবারের ১৬ সদস্যকে বাঁচানোর আকুতি আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। আমার মায়ের দোয়া আমার সঙ্গে ছিল। ফলে আমি জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি। পথে কোনো সমস্যা হয়নি।’

মাকে নিয়ে এখন কোথায় যাবেন- এমন প্রশ্নে আবার কাঁদতে থাকেন আলম। টল টল করে চোখের পানি পড়ছে। তার কান্নার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হাউ মাউ করে কাঁদছেন। এক পর্যায়ে মা ছকিনা খাতুরে চোখ বেয়ে পানি গড়াতে থাকে, কিছু বলতে চাচ্ছিলেন- কিন্তু তিনি তো বয়সের ভারে কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন অনেক আগেই।

এক পর্যায়ে আলমের ছোট ভাই নুর হোসেন (২৫) বলেন, বৃদ্ধ মা ও পরিবারের ১৬ সদস্যকে নিয়ে কোথায় যাবো, কিছুই জানি না। আল্লাহ যেদিকে নেবে, সেদিকে যাবো। ছোট ভাইয়ের কথা শেষ হতে না হতেই আলম বললেন, আমরা এখন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের দিকে যাবো। সেখানে একটু আশ্রয় চাইবো।

উৎসঃ   samakal
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ