বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট ঃ বিচারকদের ওপর মাতাব্বরি করবেন আইনমন্ত্রী : ব্যারিস্টার মইনুল  » «   প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অবাধে আসা-যাওয়া, তারপর যা ঘটল  » «   মাদক নিয়ে বিরোধে প্রবাসী দুই ভাই খুন: পুলিশ  » «   আগামী নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করব: প্রধানমন্ত্রী  » «   অমানবিক: স্বামীকে খুন, সার্জারি করে প্রেমিককে স্বামীর চেহারা দিলেন স্ত্রী!  » «   সোনালী ব্যাংকের নামফলকে এখনো ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’  » «   নারীদের মাঠে যেতে মানা করায় ইমামসহ তিনজন রিমান্ডে  » «   জেরুজালেম প্রশ্নে ওআইসি চুপ থাকতে পারে না: প্রেসিডেন্ট  » «   আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলেন ২৬৯ জন  » «   নিরাপদ পৃথিবীর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চান প্রধানমন্ত্রী  » «   জেরুজালেমকে রাজধানী পাওয়ার অধিকার কেবল ফিলিস্তিনিদের: সৌদি  » «   ‘আকায়েদ বাংলাদেশি নামের কলঙ্ক’  » «   জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করবে ওআইসি  » «   অভিশপ্ত চেয়ার: বসলেই মৃত্যু নিশ্চিত  » «   আমেরিকায় গিয়ে জঙ্গি হয়েছে আকায়েদ: পুলিশ  » «  

বিবাহ বিচ্ছেদ: কাদের সংসার ভাঙছে বেশি?

files

শাহেদ শফিক:  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। তবে কোন ধরনের পরিবারে বেশি বিচ্ছেদ ঘটছে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জমা পড়া তালাকের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত উচ্চ ও নিম্নবিত্ত পরিবারে বিচ্ছেদ বেশি হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ বছরে দুই সিটি এলাকায় বিচ্ছেদের নোটিশ জমা পড়েছে ৩৬ হাজার ৩৭১টি। এর মধ্যে কার্যকর হয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি ও বিচ্ছেদের অপেক্ষায় আছে ৫ হাজার ৫১৬টি। আর স্বামীকে তালাকের নোটিশ ২৪ হাজার ৮০৩টি বা ৬৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ ১২ হাজার ১৮টি বা ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। যাদের অধিকাংশের বয়স ৩০/৩৫ বছরের মধ্যে এবং যারা উচ্চ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। আর বিয়ের এক বছর না যেতেই তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাধারণত উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যে বিচ্ছেদ প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারে এমন প্রবণতা অনেকটাই কম।’

বিচ্ছেদের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কেউ কারও কথা শুনতে চান না। তারা যে যার কথা মতো চলেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, নিজেদের অঢেল অর্থ সম্পদ রয়েছে, তাই বিচ্ছেদ হলে সমস্যা হবে না। আর নিম্নবিত্ত পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ফারাক থাকে বেশি। বেশিরভাগ পরিবারের নারীরা চাহিদা অনুযায়ী অনেককিছুই পাননা, অভাব অনটন লেগেই থাকে। ফলে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়। আর মধ্যব্ত্তি পরিবারের সদস্যরা লোকলজ্জায় ঘর ভাঙতে রাজি হন না।’

বর্তমানে আমাদের দেশে বিচ্ছেদ বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে ড. নেহাল করিম বলেন, ‘মূলত নারীর স্বাধীনতা, সচেতনা এবং উপার্জন ক্ষমতা বাড়ায় তারা খুব সহজেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, সামাজিক অস্থিরতা, যৌতুক দাবি, নির্যাতন, তথ্য প্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, পারিবারিক কলহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, সন্দেহপ্রবণতা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলা, নারীর পুরুষ নির্ভরশীলতা কমা, নারীর আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে বিচ্ছেদ ঘটছে। এক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীরাই এগিয়ে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিচ্ছেদ একটা সামাজিক বিষয়। সামাজিকভাবে নারীদের আত্মমর্যাদা ও কর্মপরিধি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্বামীর ওপর ভরসা করতে চান না তারা। এ জন্য পারিবারে সমস্যা সমস্যা সৃষ্টি হলে তারা বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন। তবে নির্যাতন, আচরণগত সমস্যা এবং সামাজিক অস্থিরতাও বিচ্ছেদের একটি বড় কারণ।’

সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন জগতে বেশ কয়েকটি জুটির তালাকের ঘটনা বেশ আলোচিত। যাদের মধ্যে সঙ্গীত ও অভিনয়শিল্পী তাহসান-মিথিলা, কণ্ঠশিল্পী সালমা-শিবলী সাদিক (দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য), হাবিব ওয়াহিদ-রেহান, হৃদয় খান-সুজানা এবং মাহিয়া মাহি-শাহরিয়ার ইসলাম শাওনের ঘটনা খুবই আলোচিত। মূলত বিনোদন জগতের আলোচিত ও প্রভাবশালী হওয়ায় এ পরিবারগুলোর ঘর-সংসারের খবর সবাই জানতে পেরেছেন। তবে মিডিয়ার চোখে কখনও ধরা পড়েন না, এমন পরিবারেও বিচ্ছেদের ঘটনা কম নয়।

Bangla Tribune

ওদের বিচ্ছেদের হিড়িক কেন

339743_1দেশীয় শোবিজে বিচ্ছেদের হিড়িক পড়েছে। দিন দিন বাড়ছে এর সংখ্যা। বিয়ের মাস-বছর না পেরুতেই দ্বন্দ্ব, কলহ শেষতক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন এ অঙ্গনের অনেকেই। অথচ এদের অনেকের মধ্যেই বিয়ের আগে থাকে দীর্ঘদিনের গভীর প্রেম ও বন্ধুত্ব। বিয়ের পরই সেই সম্পর্কে ফাটল শুরু হয়। দুজনের মধ্যে তৈরি হয় দূরত্বের দেয়াল। আজকাল শোবিজ অঙ্গনের এসব দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ পাঠকদের জন্য প্রায় নিয়মিতই রসালো সংবাদ হয়ে ধরা দিচ্ছে। এই বিচ্ছেদে অনেক তারকাই তীব্রভাবে নিন্দিত হচ্ছেন। অনেকেই হারাচ্ছেন স্বপ্নের ক্যারিয়ার।

তারকাদের এমন ধারাবাহিক বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করছে শোবিজ অঙ্গনকে। কেন একের পর এক বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে এমন প্রশ্নই এখন শোনা যাচ্ছে সর্বত্র। এভাবে বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণাই সৃষ্টি হবে বলে অনেকে মনে করছেন। গেল কয়েক বছরের চেয়ে এই বছর তারকাদের বিচ্ছেদের সংখ্যা একটু বেশি বলতে হয়। সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস, মতবিরোধ, সন্দেহ এই কয়েকটি কারণেই তারকাদের বিচ্ছেদ ঘটছে বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন। আবার অনেক নারী তারকা লোভে পড়ে ব্যবসায়ীদের বিয়ে করছেন।

পরে স্বার্থসিদ্ধি না হলে ডিভোর্সের পথেই হাঁটছেন বলে শোবিজ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গেল বছরের শেষের দিকে ক্লোজআপ তারকা সালমাকে দিয়ে শুরু এই বিচ্ছেদ। গত ২০শে নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্তরাঁয় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সালমা ও শিবলী সাদিকের তালাকের কার্যসম্পন্ন হয়েছে। ২০১১ সালের ২৬শে জানুয়ারি বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন কণ্ঠশিল্পী সালমা।

সালমার বিচ্ছেদের রেশ না কাটতেই বিচ্ছেদের শিরোনামের আসেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী হাবিব ওয়াহীদ। স্ত্রী রেহানের সঙ্গে পাঁচ বছরের সংসারের ইতি টানেন তিনি। অনেক তরুণ-তরুণীর আইকন ছিলেন তাহসান ও মিথিলা দম্পতি। কিন্তু সেই দম্পতির সংসারও এখন আর নেই। গেল ২০শে জুলাই দু’জনের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে। ২০০৬ সালের ৩রা আগস্ট এ দুই তারকা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। এদিকে গেল ২১শে আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাজী অফিসে স্বামী নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ডির্ভোস হয় অভিনেত্রী-মডেল স্পর্শিয়ার। ২০১৫ সালের ১লা অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। এই অভিনেত্রীর ডিভোর্সের পরই গুঞ্জন ওঠে পপ গায়িকা মিলার ডিভোর্সের বিষয়টি।

প্রথমে এটিকে মিলা গুঞ্জন বলেই উড়িয়ে দেন। অবশেষে সেই গুঞ্জন সত্যি হলো। ৬ই অক্টোবর শুক্রবার রাতে মিলা নিজের ফেসবুক পেইজ ও ভেরিফায়েড ফ্যান পেজে এক পোস্টে লেখেন, হ্যাঁ, আমি ডিভোর্স দিতে যাচ্ছি। মিলার বিচ্ছেদের খবর শেষ হওয়ার আগেই ৮ই অক্টোবর নিজের বিচ্ছেদের খবর জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নোভা। অবশ্য নির্মাতা রায়হান খানের সঙ্গে তিনি গত ২৬শে আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার জীবনের ইতি টানেন বলে জানান। ২০১১ সালের ১১ই নভেম্বর তারা দুজন বিয়ে করেছিলেন। চলতি বছরে বিচ্ছেদের তালিকায় আরো আছে শখ-নিলয়ের নাম। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ২০১৬ সালের ৭ই জানুয়ারি এই দম্পতি বিয়ে করে মিডিয়া অঙ্গনে বেশ চমক সৃষ্টি করেছিলেন।

এদিকে সম্প্রতি লাক্স তারকা বাঁধনের ডিভোর্সের বিষয়টিও বেশ আলোচনায় এসেছে। বাঁধন তার স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেটের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের বিচ্ছেদগুলো ছাড়াও তারকাদের বিচ্ছেদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো হৃদয় খান ও সুজানার বিচ্ছেদ। ২০১৫ সালে ৫ বছরের বড় সুজানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন হৃদয় খান। বিয়ের কয়েক মাস না যেতেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু কি কারণে কেন এই বিচ্ছেদ? আজো তাদের দুজনের কারো কাছ থেকে জানা যায়নি। তবে এদিকে হৃদয় খান আবারো বিয়ে করেছেন। গেলো কয়েক বছরে আরো বিচ্ছেদ ঘটেছে টিভি অঙ্গনের জনপ্রিয় দুটি মুখ মনির খান শিমুল ও নাদিয়ার। এছাড়া সোহানা সাবা ও সারিকাসহ অনেকেই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এখন একাকী জীবনযাপন করছেন।

উৎসঃ   মানব জমিন
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ