বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট ঃ বিচারকদের ওপর মাতাব্বরি করবেন আইনমন্ত্রী : ব্যারিস্টার মইনুল  » «   প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অবাধে আসা-যাওয়া, তারপর যা ঘটল  » «   মাদক নিয়ে বিরোধে প্রবাসী দুই ভাই খুন: পুলিশ  » «   আগামী নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করব: প্রধানমন্ত্রী  » «   অমানবিক: স্বামীকে খুন, সার্জারি করে প্রেমিককে স্বামীর চেহারা দিলেন স্ত্রী!  » «   সোনালী ব্যাংকের নামফলকে এখনো ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’  » «   নারীদের মাঠে যেতে মানা করায় ইমামসহ তিনজন রিমান্ডে  » «   জেরুজালেম প্রশ্নে ওআইসি চুপ থাকতে পারে না: প্রেসিডেন্ট  » «   আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলেন ২৬৯ জন  » «   নিরাপদ পৃথিবীর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চান প্রধানমন্ত্রী  » «   জেরুজালেমকে রাজধানী পাওয়ার অধিকার কেবল ফিলিস্তিনিদের: সৌদি  » «   ‘আকায়েদ বাংলাদেশি নামের কলঙ্ক’  » «   জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করবে ওআইসি  » «   অভিশপ্ত চেয়ার: বসলেই মৃত্যু নিশ্চিত  » «   আমেরিকায় গিয়ে জঙ্গি হয়েছে আকায়েদ: পুলিশ  » «  

চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে কারখানা

hill-destroy-ctg-1791051789

তাজুল ইসলাম পলাশ: পাল্টে গেছে পাহাড় কাটার ধরন। হরেক রকম কায়দায় কাটা হচ্ছে পাহাড়। ওপরের অংশ ন্যাড়া করে রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। পাহাড় নিধনযজ্ঞ চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন ও বনবিভাগ রয়েছে নীরব ভূমিকায়। প্রতিনিয়ত পরিবেশের ওপর এই আগ্রাসন চললেও কারও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। এই দৃশ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী আকবর শাহ থানার শাপলা আবাসিক এলাকার।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি পাহাড় দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে পাস্তুরিত দুধ, বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদনের কারখানা। অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কারখানা নির্মাণ করতে পাহাড় কাটার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভারি ড্রেজার মেশিন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই পাহাড় কাটা। পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে এলাকার চিহ্নত মাটি পাচারকারী চক্র। দীর্ঘদিন ধরে মাটি পাচার করে অবৈধ টাকা আয় করছে এ চক্রটি। সম্প্রতি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একদিকে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ, অন্যদিকে মাটি পাচার। পাহাড় কাটার ফলে চট্টগ্রামে প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রচুর মানুষ মারা যায়। এ কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢালুতে বসবাসকারী লোকজনদের জীবন হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু দিন দুপরে পাহাড় কাটার কর্মযজ্ঞ চললেও কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

পরিবেশবিদদের মতে, কারখানা নির্মাণ করলে শব্দ দূষণ এবং কালো ধোঁয়ায় এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই পাহাড়ের ওপরের অংশ যেভাবে কাটা হয়েছে তাতে বৃষ্টি হলে এই পাহাড়ের মাটি পানির ঢলের সঙ্গে নিচের দিকে নেমে পড়বে। পাহাড়ের আশেপাশে অন্তত দুইশ’ পরিবার রয়েছে। ফলে এই বর্ষাকালে বড় ধরনের প্রাণহানির অাশঙ্কা তৈরি হবে।

hill.ctg.

চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে কারখাানা নির্মিত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই নির্মাণাধীন কারখানার মালিকের হচ্ছেন সৈয়দ আলম ওরফে এম এস আলম। এলাকার সবাই তাকে আলম সাহেব নামে চেনে। কারখানা ছাড়াও ওই এলাকায় এম এস আলমের মামিয়া ড্রিংকিং ওয়াটার নামে মিনারেল পানির কারখানা রয়েছে। এ ছাড়াও গবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদনের কারখানাও রয়েছে।

ফটিকছড়ির সাবেক এমপি রফিকুল আলমের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয়দানকারী এম এস আলম সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বেয়াই বলেও জানা গেছে। তার দাপটে ওই এলাকার লোকজন এখন কোনঠাসা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল একটি এলাকা উচুঁ টিন দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। ভেতরে কী হচ্ছে বাইরে থেকে তা দেখার কোনো সুযোগ নেই। আশপাশে গুটিকয়েক দোকানপাট রয়েছে। কাছে গিয়ে দেখা গেছে, পশ্চিমে পাহাড়, উত্তরে ও দক্ষিণে বসতি এবং সামনে কাঁচা সড়ক পূর্ব দিকে চলে গেছে। বেশ কয়েকজনকে দেখা গেল ভবনের কাজ করতে। জানতে চাইলে দায়িত্বরতরা বলেন, এটা অফিসের কাজ চলতেছে।

পেছনে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। ওই সময় কয়েকজনকে কাজ করতে দেখা যায়। গবাদি পশুর খামারের পাশে তৈরি করা হচ্ছে বায়োগ্যাস প্রকল্প। এর পাশেই কেমিক্যাল কারখানা।

hii-destroy-ctg.

চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে এমএস আলমের কারখানা। নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ছৈয়দুল আলম প্রিয়.কম-কে বলেন, পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ হচ্ছে পাহাড় কাটা। আমাদের দেশে প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড়ের ভূমিকা রয়েছে। গাছ-পালা যেমন প্রকৃতিকে আগলে রাখে পাহাড়ও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, পাহাড় কাটার কারণে অতি বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি হতে পারে। যারা পাহাড় কাটে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইন করেছে। আইনে কমপক্ষে ১০ বছরের সাজার বিধান রেখেছে। পাহাড় ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের যোগসাজশেই এখানে পরিবেশ বিপর্যয়ের তাণ্ডব চলছে। নিধন করা হচ্ছে ছোট বড় অসংখ্য গাছপালা। শাপলা আবাসিকে পরিদর্শনকালে ফুটে ওঠে পরিবেশ বিনষ্টকারী চক্রের অশুভ তৎপরতা। দেখা যায়, এম এস আলমের কেমিক্যাল কারখানা নামক স্থানে শ্রমিক লাগিয়ে বিশাল পাহাড় কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে মো. সৈয়দ আলম ওরফে এম এস আলম প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘আমার নিজের জায়গার ওপর কারখানা করতেছি’।

পাহাড় কেটে কারখানা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বায়োগ্যাসের জন্য পরিবেশের ছাড়পত্র লাগে না। কিছুদিন আগে আমাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানগুলা পুরোদমে চালু করার পর অনুমোদন নিয়ে চিন্তা করব। আমি যা করছি জনগণের কল্যাণের জন্য করছি।’ এখানে মামিয়া পাস্তুরিত দুধ, বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদনের কারখানা করা হবে বলে জানান আলম। কথার এক ফাঁকে তিনি সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বেয়াই বলে পরিচয় দেন।

আবারও পাহাড় কাটার বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আলম বলেন, ‘নিউজ করবেন কোন পত্রিকায়? করেন! কিচ্ছু হবে না।’

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘পাহাড় কেটে কোনো কিছু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। শুধু পাহাড় কাটা নয়, পরিবেশ বিপর্যয় হবে এমন কিছু ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এম এস আলমের বিষয়টি নজরে আনলে আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আলমকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি পাহাড় কাটে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে যাই করুক পরিবেশের ক্ষতি হলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রিয়.কম

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ