বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট ঃ বিচারকদের ওপর মাতাব্বরি করবেন আইনমন্ত্রী : ব্যারিস্টার মইনুল  » «   প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অবাধে আসা-যাওয়া, তারপর যা ঘটল  » «   মাদক নিয়ে বিরোধে প্রবাসী দুই ভাই খুন: পুলিশ  » «   আগামী নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করব: প্রধানমন্ত্রী  » «   অমানবিক: স্বামীকে খুন, সার্জারি করে প্রেমিককে স্বামীর চেহারা দিলেন স্ত্রী!  » «   সোনালী ব্যাংকের নামফলকে এখনো ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’  » «   নারীদের মাঠে যেতে মানা করায় ইমামসহ তিনজন রিমান্ডে  » «   জেরুজালেম প্রশ্নে ওআইসি চুপ থাকতে পারে না: প্রেসিডেন্ট  » «   আওয়ামী লীগ ত্যাগ করলেন ২৬৯ জন  » «   নিরাপদ পৃথিবীর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চান প্রধানমন্ত্রী  » «   জেরুজালেমকে রাজধানী পাওয়ার অধিকার কেবল ফিলিস্তিনিদের: সৌদি  » «   ‘আকায়েদ বাংলাদেশি নামের কলঙ্ক’  » «   জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করবে ওআইসি  » «   অভিশপ্ত চেয়ার: বসলেই মৃত্যু নিশ্চিত  » «   আমেরিকায় গিয়ে জঙ্গি হয়েছে আকায়েদ: পুলিশ  » «  

“পূর্ব দিগন্তে লাল সূর্য্য জন ¯্রােতে বেগম খালেদা জিয়া”

20170110_194039

সায়েক এম রহমান:  ১.  ১২ নভেম্বর ২০১৭ । রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বহুদিন পর অনুমোদন নিয়েই জনসভা করল বিএনপি।
অপর দিকে আওয়ামীলীগ সরকার রাজধানী ঢাকা অভিমুখে যানবাহন ও জনজীবন চলাচলে বাঁধা দিয়ে প্রমান করল, থালা বাটি দেবে কিন্তু ভাত দিবে না। তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকা শহরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। সমাবেশগামী মানুষদেরকে আগের রাত থেকে বিভিন্নভাবে বাঁধা দিয়ে, গ্রেফতার আতংক চালিয়ে সমাবেশে জন¯্রােত ঠেকাতে পারেনি। গনতন্ত্রকামী মানুষরা যে যার মত করে হেঁটে হেঁটে,মিছিলে মিছিলে, যোগ দিয়ে জনসভাকে জনসমুদ্রে রুপান্তরীত করে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ঐ জনসুমুদ্র কোথায় শুরু কোথায় শেষ বলা মুসকিল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। যতদুর চোঁখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। লক্ষ লক্ষ মানুষ। জনস্রোতে ভেসে যায় সব বাঁধা বিপত্তি ও সব ষড়যন্ত্র। লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী উজ্জিবীত হয়ে উঠে। মানুষ দেখতে পায়, “পূর্ব দিগন্তে লাল সূর্য্য ও জন¯্রােতে বেগম খালেদা জিয়া”।
এই জনসমুদ্রের জন¯্রােত থেকে বেগম খালেদা জিয়া বললেন, “মানুষ আজ পরিবর্তন চায়”। হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন। ইভিএম নয়,সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্টেসি ক্ষমতা দিতে হবে। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাইনা, দেশের উন্নয়নে বিএনপি ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ করতে চায়। সাহস থাকলে একই স্থানে সমাবেশ করুন, দেখা যাবে কার সাথে কত জনগন। আমরা জনগনের শক্তিতে বিশ্বাসী। প্রধান বিচারপতিকে জোর করে বাইরে পাঠানো হয়েছে। এজেন্সির লোক দিয়ে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে । সরকারী কর্মচারীদের চাকরী যাবে না। দক্ষ ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। আরও বললেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে মত পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তুু দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে যথেষ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছে কিন্তুু তৃণমূল নেতাকর্মীরা চেয়েছিলেন তাঁহার বাক্য উচ্চারন আরও আন্দোলনমূখী হবে। কারন তাদের বিশ্বাস এই অবৈধ সরকারের কাছ থেকে আন্দোলন ব্যাতীত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার অসম্ভব।
২. পাঠক প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাহিরে থাকা সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা ভোটের সরকার কর্তৃক লাঞ্চিত বঞ্চিত করে রাখা, জনসম্মুখে না আসতে দেওয়া, ইট ও বালুর ট্রাকে বন্দী করে রাখা, বিধবা পুত্র বধু ও নাতনীদেরকে নিয়ে যখন পূত্র হারানোর বেদনায় শোকহত, ঠিক তখন তাহার উপর মামলা দায়ের করা, এমনকি বিদ্যুৎ ইন্টানেট লাইন পর্যন্ত কেটে দেওয়া,অনর্থক প্রতি সপ্তাহে দুই তিন বার করে কোর্টে লেফট রাইট করানো এবং মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ এমনকি মানব বন্ধন পর্যন্ত করতে না দেওয়া ইত্যাদিতে দেশ নেত্রীর জন্য জনগনের ভালবাসার পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ যেন এক অন্য রকম উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
তারই সদ্য জলন্ত প্রমান সড়ক পথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার ও উখিয়া গমনে পুরো রাস্তায় লক্ষ লক্ষ জনতা শত বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে যে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, ভালবাসা দেখিয়েছেন, তাঁহার পুরো যাত্রা পথকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছেন। এ যেন স্বপ্নকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। লক্ষ কোটি জনতার জন¯্রােতে মিশে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।
সেই দিন বেগম খালেদা জিয়ার বহরে হামলা হওয়ার কারনে সরকারী দল আওয়ামীলীগকে সারা জাতির কাছে তিরস্কৃত হতে হয়েছে। মানুষজন বলছে, তারা খালেদা জিয়াকে লাঞ্চিত করার জন্য যতই মরন কামড় দেউক কিন্তুু লাভ হবে না কারন জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। জাতি আজ নিজ কাঁধে তোলে নিয়েছে বেগম জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্ব। প্রতিটি মানুষ আজ গণতন্ত্রের রক্ষার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে।
আরেক প্রমান, চিকিৎসা শেষে তিন মাস পর লন্ডন থেকে ঢাকা আগমনে বেগম জিয়াকে স্বাগতম জানাতে বিমান বন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তিল ধারন করার মত জায়গা ছিল না । শুধু মানুষ আর মানুষ। সেই দিন সরকার ষ্ট্রীট লাইট অফ করে দিয়েছিল কিন্তুু তাতে কি ? সেই দিন ঢাকার রাজপথে এক অভিনব দৃশ্য দৃশ্যায়িত হয়েছিল। দলের লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী তাদের মোবাইলের আলো দ্বারা তাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আলোকিত করে গুলশানে পৌঁছে দিয়েছিল। সেদিন লক্ষ কোটি মানুষের ভালবাসায় শিক্ত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এসব যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।
৩. পাঠক সব মিলে আজ সারা বাংলার রাজপথে রাজপথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গন আন্দোলনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, বঙ্গপোসাগরের তর্জন ও গর্জন। ক্রমেই দৃশ্যায়িত হচ্ছে উল্লাসিত জনতার সেই নব্বই এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের জোয়ার। এই উত্তাল জনসমুদ্রের আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জন¯্রােত গুলো আর আটকাবে কে? অবৈধ সরকারের বর্বরতার ও নির্মমতার জবাব দিবে বাংলাদেশ। এখন প্রয়োজন শুধু নির্বাচনের রুপরেখা প্রদান করা। এবং নিরপেক্ষ একটি সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। বাংলাদেশ এখন পুরোদমে প্রস্তুুত। তাই বলছি পূর্ব দিগন্তে লাল সূর্য্য আর জন¯্রােতে বেগম খালেদা জিয়া।
লেখক
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ