মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হবে : শিবির সভাপতি  » «   খালেদার বক্তব্য বিকৃত করে রায় দিয়েছেন আখতারুজ্জামান!  » «   একজন ভাষাসৈনিক গোলাম আজম এবং আমার ভাবনা  » «   আগামী বছর নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি  » «   ধনীদের আরো বেশি কর দেয়া উচিত: বিল গেটস  » «   খালেদা ভোটের যোগ্যতা হারালে কিছু করার নেই: কাদের  » «   তারেকের স্ত্রী, কন্যার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনের খবর  » «   খালেদার জামিন আবেদনের আগেই কপি চান অ্যাটর্নি জেনারেল  » «   ব্যাংকে জালিয়াতির কোনো ঘটনায় ছাড় দেয়া হয়নি: তোফায়েল  » «   বাংলাদেশকে কেউ আর অবহেলার সাহস পায় না: প্রধানমন্ত্রী  » «   বাসের ধাক্কায় ৪ অটোযাত্রী নিহত  » «   ২১ গুণীজনকে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ভারতের দুর্ভাগ্য যে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় আছে: মমতা  » «   খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি বৃহস্পতিবার  » «   দিল্লির দৃষ্টিতে খালেদা জিয়ার দণ্ড ও ঢাকার রাজনীতি  » «  

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া

tampজেরুজালেম: জেরুজালেম খ্যাত ফিলিস্তিনের বাইতুল মোকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে ঘোষণা দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ট্রাম্পের ঘোষণার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

এমনটি ব্রিটেন, ফ্রান্স, সৌদি আরবের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোও এই স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক আর দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে বর্ণনা করেছে সৌদি আরব। ফ্রান্স, জার্মানি আর যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুটেরেস বলেছেন, এটা খুবই গভীর উদ্বেগের সময়। কারণ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ছাড়া এর আর কোন বিকল্প নেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারগট ওয়ালস্ট্রোম মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে বিপর্যয়কর বলে মন্তব্য করেছেন।

যদিও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটা একটি ঐতিহাসিক দিন।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আসন হারিয়েছে। এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনের ইতিহাস পাল্টে দিতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক সমাজে ট্রাম্পের এ স্বীকৃতির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলও আলাদা বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করেছে।

ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করেছেন উল্লেখ করে হামাস বলছে, মি. ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ক্ষেত্রে জাহান্নামের দরজা খুলে দেবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

ফিলিস্তিনের আরেকটি প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদ বলেছে, এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের উপ মহাসচিব জিহাদ নাখালা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোগান বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকেই, তার ভাষায় আগুনের বৃত্তে ছুড়ে ফেলবে। ইস্তানবুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

শুক্রবার এ নিয়ে আলোচনায় বসবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের আটটি দেশ জরুরী অধিবেশন ডেকেছে, যেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য আর ফ্রান্সের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশও।

শনিবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে আরব লীগ। এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও।

এ ছাড়া, মিশর, তুরস্ক, লেবানন, সিরিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলাদা আলাদা বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জেরুজালেম শহরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরৈই ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শুধু এই শহরটি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে থেকে থেকেই সহিংসতা হয়েছে, প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। ফলে কোন পক্ষকেই স্বীকৃতি না দেয়ার মার্কিন নীতি চলে আসছে বহুদিন ধরে।

কিন্তু বুধবার হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিতর্কিত জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরও ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকান দূতাবাস তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ