সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত  » «   সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন হাসিনা  » «   টার্নিং পয়েন্ট খালেদার মামলা  » «   এবার সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত  » «   ভারতীয় স্কুলগুলোতে কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিলেন মানেকা গান্ধী  » «   প্রত্যাশিত দেশ গড়তে চাই কাঙ্খিত নেতৃত্ব : শিবির সেক্রেটারি  » «   ঢাবি সিনেটে বিএনপিপন্থীদের ভরাডুবির কারন ফাঁস !  » «   সিলেটের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন  » «   কবে, কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি?  » «   যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়  » «   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার  » «   এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি  » «   এমপিপুত্রের শেষ স্ট্যাটাস ‘তোর জন্য চিঠির দিন..’  » «   নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে ইসরাইলে লাখো জনতার বিক্ষোভ  » «  

মাদক কারবারে সহযোগিতা এমন পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন কী

images

মাদকের ভয়ংকর থাবা যুবসমাজকে গ্রাস করে ফেলছে। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সময়ে সময়ে নিম্নস্তরের কিছু মাদক বিক্রেতা ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। কিন্তু এত লেখালেখির পরও অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি নেই; বরং অনেক ক্ষেত্রেই অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক। সীমান্তসংলগ্ন এলাকাটিতে মাদকের নেশা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পাচারকারী ও মাদক বিক্রেতারা প্রায় প্রকাশ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন এলাকার অভিভাবকরা। পাচারকারী ও বিক্রেতারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ মাদক বিক্রিতে বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতা করছে।গত রবিবার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র নিজেই গোদাগাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন। কি ভয়ংকর কথা! বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাষ্ট্র যাদের নিয়োগ করেছে মাদকের বিস্তার রোধ করার জন্য, তারাই এই অবৈধ কারবারে সহযোগিতা করছে?

মানুষ একবেলা কম খেয়ে হলেও কিছুটা শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চায়। সন্তানের বিপথগামিতা রোধ করতে চায়। কিন্তু তা কি সম্ভব হচ্ছে? মাদক সহজলভ্য হওয়ায় যেভাবে নেশার বিস্তার ঘটছে, তাতে সন্তানের বিপথগামিতা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সহযোগিতার অভিযোগ আগেও উঠেছে। কিছু সদস্য বিভিন্ন সময় ধরাও পড়েছে। কিন্তু তাতে অবস্থা যে খুব একটা বদলায়নি তারই প্রমাণ গোদাগাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এমনিতেই সেখানে চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধ তৎপরতা বেশি। তার ওপর যদি থানা পুলিশের আশকারা পাওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই। অপরাধীরা পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। অভিযোগটি অতি জরুরি বিবেচনা করে এ ব্যাপারে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু গোদাগাড়ী নয়, আরো যেসব জায়গায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত তদন্ত করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অপরাধী বা অনৈতিক লোকজন কমবেশি সব সমাজেই আছে। সেই দুষ্টদের দমন করে শিষ্টদের জীবনযাপন নির্বিঘ্ন করাটাই পুলিশের কাজ। এ জন্যই জনগণের অর্থে এত বড় বাহিনী লালন করা হয়। সেই বাহিনীরই কোনো সদস্য যদি অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জনজীবনে নাভিশ্বাস তোলে, তবে তা অতি জঘন্য অপরাধ। এই অপরাধকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। আমরা চাই, পুলিশ বাহিনী থেকে এ ধরনের সদস্যকে বাদ দেওয়া হোক এবং প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

kalerkantho

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ