সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত  » «   সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন হাসিনা  » «   টার্নিং পয়েন্ট খালেদার মামলা  » «   এবার সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত  » «   ভারতীয় স্কুলগুলোতে কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিলেন মানেকা গান্ধী  » «   প্রত্যাশিত দেশ গড়তে চাই কাঙ্খিত নেতৃত্ব : শিবির সেক্রেটারি  » «   ঢাবি সিনেটে বিএনপিপন্থীদের ভরাডুবির কারন ফাঁস !  » «   সিলেটের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন  » «   কবে, কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি?  » «   যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়  » «   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার  » «   এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি  » «   এমপিপুত্রের শেষ স্ট্যাটাস ‘তোর জন্য চিঠির দিন..’  » «   নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে ইসরাইলে লাখো জনতার বিক্ষোভ  » «  

দুই হাজার সন্তানের মা !

mmaআবু রাইয়ান: প্রায় দুই বছর আগের কথা। চাকরির প্রয়োজনে গ্রীস ভ্রমণে যান লিসা ক্যাম্পবেল নামে এক নারী। গ্রীসের বন্যাকবলিত একটি এলাকার শরণার্থীদের নিয়ে তার কাজ। সেখানে পা রাখার পর থেকেই কেন জানি মানুষগুলোর প্রতি তার ভালোবাসা জন্মে। এই টানেই তিনি নিজের চাকরি বাদ দিয়ে শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন। তাদের সঙ্গে নিজের দুঃখ কষ্টগুলো ভাগ করে নিয়েছেন। শেষমেশ যখন শরণার্থী ক্যাম্প ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন লিসা, তখন অনেকটা দুষ্টুমির ছলে তার স্বামী তাকে বলেন, ‘বাড়ি গিয়ে কী কাজ করবে? ক্যাম্পে তো তুমি দুই হাজারের বেশি সন্তানের মা হিসেবে ছিলে।’

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাম্পে ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেছেন লিসা ক্যাম্পবেল। শুরুর দিকে বেশ আনন্দে কাটে তার। তবে মাঝেমধ্যে মানুষগুলোর কষ্টে ব্যথিত হতেন লিসা। এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন নৌকায় করে উপচে পড়া মানুষ ক্যাম্পের দিকে আসছে। মনে হয় এই বুঝি ডুবে যাবে এটি।

প্রথম মাস যাওয়ার পর লিসা একজন ডোনার পেয়ে যান। এরপর তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন এবং আরো ভালো করে মন দেন শরণার্থী শিবিরে। দিন যত যায়, ততই ক্যাম্পের মানুষগুলোকে আপন মনে হয় লিসার। ‘আমার কাছে কাজটা মায়ের মতোই মনে হয়েছে। একজন মা যেভাবে তার সন্তানদের দেখভাল করে ঠিক এমনটা আমার সঙ্গেও হয়েছে।’

ক্যাম্প বন্ধ হওয়ার খবর শুনে অনেকেই আমার কাছে এসে ভিড় করেছে। তারা বলতে থাকে, ‘আপনি আমাদের মায়ের মতো। আপনি কোথাও যাবেন না। আপনাকে ছাড়া আমরা থাকতে পারব না।’ তখনই আমি ভাবলাম, ‘আমার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। আসলে তাদের সঙ্গে কাটানোর সময়টা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।’ যাবার বেলায় আরেকটা স্মৃতি আমাকে বেশ আবেগময় করে তোলে। ‘মুস্তফা নামের ছোট্ট একটি শিশু আমি চলে যাবো এই খবর শুনে আমার সাথে ক্যাম্প ছাড়ার জন্য হইচই শুরু করে দেয়। আমি তাকে বুকে জড়িয়ে বিদায় জানিয়েছি।’

আমি জানি, ডিসেম্বরের ২২ তারিখ আমার ভিসার মেয়াদ শেষ। তাই যে করে হোক আমাকে গ্রীস ছাড়তে হবে। মায়ার জালটা আর বিস্তৃত করতে পারলাম না। অসাধারণ কিছু মানুষের সঙ্গে সময় কাটল আমার। যাদের কাছ থেকে আমি গভীর ভালোবাসা পেয়েছি। সম্মান পেয়েছি। আতিথেয়তারও কমতি ছিল না। অবশেষে তাদের সাথে প্রায় ১৮ মাসের মধুর সম্পর্কের ইতি টানতে হলো আমাকে। অবশ্য গ্রীস সরকার যদি ক্যাম্পটা বন্ধ না করতো, হয়তো আমিও আরও কিছুদিন থাকার চেষ্টা করতাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ