সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত  » «   সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন হাসিনা  » «   টার্নিং পয়েন্ট খালেদার মামলা  » «   এবার সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত  » «   ভারতীয় স্কুলগুলোতে কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিলেন মানেকা গান্ধী  » «   প্রত্যাশিত দেশ গড়তে চাই কাঙ্খিত নেতৃত্ব : শিবির সেক্রেটারি  » «   ঢাবি সিনেটে বিএনপিপন্থীদের ভরাডুবির কারন ফাঁস !  » «   সিলেটের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন  » «   কবে, কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি?  » «   যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়  » «   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার  » «   এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি  » «   এমপিপুত্রের শেষ স্ট্যাটাস ‘তোর জন্য চিঠির দিন..’  » «   নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে ইসরাইলে লাখো জনতার বিক্ষোভ  » «  

সন্ত্রাসবাদের রূপ

281612_152

মো: মতিউর রহমান:  বাংলাদেশে মৌলবাদ নিয়ে অনেক কথাই বলা হচ্ছে এবং এটি এক ধরনের গালিতে পরিণত হয়েছে। যেকোনো ধর্মের মূলনীতিতে বিশ্বাসীরাই ‘মৌলবাদী’। অন্য ধর্মের সাথে সমন্বয় কিংবা অন্য ধর্মের আচার-আচরণ গ্রহণ করার কোনো অবকাশ থাকার কথা নয়। কমিউনিস্ট দুনিয়াতে তো ‘মৌলবাদ’-এর দাবি নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছে। রাশিয়ান লেনিনবাদী কমিউনিস্টরা নিজেদের মৌলবাদী কমিউনিস্ট বলে দাবি করতেন, আবার স্ট্যালিনপন্থীরাও মৌলবাদী কমিউনিস্ট বলে দাবি করতেন। অন্য দিকে চীনে মাও সেতুংপন্থীরাও মৌলবাদী কমিউনিস্ট বলে নিজেদের দাবি করতেন। খ্রিষ্টান জগতে ১৮৭০ সাল থেকে দস্তুরমতো প্রচণ্ড আন্দোলন হয়েছে। ক্যাথলিকরা দাবি করতেন, তারাই মৌলবাদী, আবার প্রোটেস্ট্যান্টরা দাবি করতেন, তারাই মৌলবাদী। এভাবে ব্যাপটিস্ট, মেথডিস্টদের মতো খ্রিষ্টান রয়েছে যারা প্রত্যেকেই নিজেকে মৌলবাদী বলে দাবি করতেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (জুনিয়র)-এর নীতিকেও অনেকে ক্রিশ্চিয়ান ফান্ডামেন্টালিজম বা মৌলবাদ বলেছেন। অথচ বাংলাদেশে দাড়িওয়ালা ও টুপি পরা ধর্মভীরু মুসলমানদের ‘মৌলবাদী’ বলে গালি দেয়া হচ্ছে।

মৌলবাদ কেন ওঁচা হবে কিংবা গালিতে পরিণত হবে? মৌলবাদ বা যে কোনো ‘বাদ’ যদি সহিংস বা জঙ্গি রূপ নেয় তা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয়। কোনো দেশে কিছু লোক ধর্মের নামে জঙ্গি রূপ ধারণ করলে বা সহিংস হয়ে উঠলে এবং তাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা পেলে তখন এদের গায়ে ইসলামি তকমা এঁটে দেয়া হয়; কিন্তু অন্য ধর্মাবলম্বীদের বেলায় তা দেখা যায় না। প্রায় সব দেশের ধর্ম রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে এবং ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক দল অনেক দেশেই আছে। জার্মানিতে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল বেশ শক্তিশালী। জার্মানি ও গ্রেট ব্রিটেনের (উত্তর আয়ারল্যান্ড) ইতিহাস ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের সঙ্ঘাতে পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি নাৎসীরা ৬০ লাখ ইহুদিকে পুড়িয়ে মেরে ছিল। হিটলারের ইহুদি নিধন ও নির্যাতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ইহুদিরাষ্ট্র ইসরাইল। হিটলার আরব বা মুসলিম না হলেও হিটলারের অপরাধের জন্য আরবদের বিশেষ করে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের দিতে হচ্ছে চরম খেসারত। জার্মানিতে এখন তুর্কি মুসলমানদের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি, যারা বড় রকমের বৈষম্যের শিকার। কিন্তু কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এ ধরনের কোনো অন্যায় ঘটেনি।

মিয়ানমারের কাচিন ও কারেন বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী বা টেরোরিস্ট বলা হলেও তাদের গায়ে ধর্মীয় লেবাস পরানো হচ্ছে না। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে মিলে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা জঘন্য সন্ত্রাস করে রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ এবং গ্রাম ধ্বংস করে তাড়িয়ে দিলেও তাদের সন্ত্রাসী কিংবা বৌদ্ধ সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে না।

ফ্রান্স একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তবে কে না জানে, ফরাসিরা অন্যায়ভাবে আলজেরিয়া দখল করে মসজিদকে গির্জায় রূপান্তরিত করেছিল। অপর দিকে এখনও ফ্রান্সে মসজিদ বানাতে গেলে সরকারের কাছ থেকে আগে অনুমতি নিতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে শপথ নিতে হয় বাইবেল ছুঁয়ে। অথচ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে এ ধরনের শপথ নিতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ডারউইনের মতবাদ পড়ানো নিষিদ্ধ বলে জানা যায়। এসব ঘটনা কি মৌলবাদের পরিচায়ক নয়?

বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে আছে। এখানে অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের প্রভাব থাকা একেবারে অসম্ভব নয়। কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞানে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ইউরোপের কোনো কোনো দেশে বহু অন্ধবিশ্বাস এখনো টিকে আছে। অন্য দিকে বাংলাদেশে মূলত উদার ইসলামি মূল্যবোধ ক্রিয়াশীল। গোঁড়ামি যে একেবারে নেই, তা নয়। তবে তা সহনীয় পর্যায়ে আছে। তা না হলে দু-দু’জন মহিলা নেত্রীর পক্ষে সম্ভব হতো না বারবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। ইসলামে মেয়েদের শিক্ষিত হতে কোনো বাধা তো নেই-ই, বরং প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন ফরজ করা হয়েছে। ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবে কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো। ইসলামে এ নারকীয় প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউরোপে ডাইনি সন্দেহে মেয়েদের পুড়িয়ে মারা হতো, কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে মেয়েদের এভাবে নির্যাতনের কোনো নজির নেই।

মুসলমান মেয়েরা বাবা-মা, স্বামী ও সন্তানের সম্পত্তির অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করতে পারেন। হিন্দু ধর্মে মেয়েরা এবং কোনো কোনো উপজাতির মেয়েরা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন না, যদিও বিয়ের সময় মেয়েদের উপঢৌকন দেয়া হয়। কিন্তু হিন্দু উত্তরাধিকার আইন নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করা হয় না। যত হই চই করা হয় মুসলিম উত্তরাধিকার আইন নিয়ে। অথচ একজন মুসলিম মেয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি এবং তার স্বামীর সম্পত্তি ওই মুসলিম মেয়ের ভাইয়ের সম্পত্তি এবং ভাইয়ের স্ত্রীর সম্পত্তির সমান। সে ক্ষেত্রে, পারিবারিক ইউনিট হিসেবে পুরুষ ও মেয়েদের মধ্যে চূড়ান্ত বিশ্লেষণে কোনো পার্থক্য থাকে না। মুসলিম মেয়েরা অবিবাহিত হলেও আলাদাভাবে সম্পত্তির অধিকারী হতে পারেন এবং তা ভোগ করতে পারেন। বাবা ইচ্ছা করলে ছেলের সমান সম্পত্তি মেয়েকে দিতে পারেন এবং এরকম উদাহরণও আছে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন সংশোধনীর বিরোধিতাকে মৌলবাদ বলে গালি দেয়া হচ্ছে যদিও ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘনের অধিকার মানুষের নেই। জানা দরকার, স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকারও ইসলাম মেয়েদের দিয়েছে।

মেয়েদের বোরকা পরা শুরু হয় খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দীতে আব্বাসীয় আমলে। তাতে পুুরো শরীর ঢাকা পড়ত। কিন্তু মুখমণ্ডল ঢাকা বাধ্যতামূলক ছিল না। একসময় এ দেশে পুরুষ ও মহিলারা একই সাথে মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। সুলতানি আমলের মসজিগুলোতে এর প্রত্যক্ষ নিদর্শন পাওয়া যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটা নিরুৎসাহিত করা হয়। অবশ্য এখনো কোনো কোনো মসজিদে এবং ঈদের জামায়াতে এ ব্যবস্থা আছে। আজকাল ঘরের বাইরে কর্মরত মহিলাদের মধ্যে অনেকেই বোরকা পরেন। এতে এক দিকে শালীনতা বজায় থাকে, অন্য দিকে এটা তাদের সুরক্ষা দেয়। একে মৌলবাদের নিদর্শন বলে অপবাদ দিয়ে নিরুৎসাহিত করা হলে ধর্ষণের মতো অপরাধ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

বিশ্বে এরকম একটা ধারণা রয়েছে যে, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ ছাড়াও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামের একটা সম্পর্ক আছে, যা সত্যি নয়। স্বাধীনতার আগে দক্ষিণ সুদানের খ্রিষ্টান বিদ্রোহীদের কিংবা পূর্ব তিমুরের খ্রিষ্টান বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী বলা হতো না। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্যাথলিক বিদ্রোহীদেরও সন্ত্রাসী বলা হয় না। কিন্তু ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও চেচনিয়া প্রভৃতি অঞ্চলের মুসলিম স্বাধীনতাকামীদের সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। তারা মুসলিম বলেই কি এই অপবাদ? মিয়ানমার ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে ভীতির সঞ্চার করে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করেছে এবং গণহত্যা ও ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কেউ সন্ত্রাসী বলছে না। অথচ দীর্ঘকাল ধরে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সীমিত প্রতিরোধ আন্দোলনকেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে না কিংবা নিরাপত্তা স্থাপনায় তাদের হামলা হলেও এর গায়ে ধর্মীয় লেবাস পরানো বা ধর্মীয় রঙ মাখানো হয় না। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনরত মুসলিমদের ‘ইসলামি সন্ত্রাসী’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় না। কিন্তু ভারতে প্রতি বছর কয়েকবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। সংবিধান অনুযায়ী ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও কংগ্রেস শাসনামলে সেখানে শত শত বছরের প্রাচীন বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে অন্যায়ভাবে। বর্তমানে দিল্লিতে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক দর্শনই হলো মুসলিমবিদ্বেষ ছড়ানো এবং তাদের বহিরাগত বলে আখ্যায়িত করে ভারত থেকে বিতাড়ন করা ও সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদ কায়েম করা। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বেশ কিছু হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি তথা চরমপন্থী সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে। এসব সংগঠন প্রায়ই মুসলিম স্থাপনা, মসজিদ ও নামাজের জামাতে হামলা করে থাকে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোই যাদের পৃষ্ঠপোষক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সনাতন সংস্থা, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বন্দে মাতরম, জনকল্যাণ সমিতি অভিনব ভারত প্রভৃতি। পরিবেশের দোহাই দিয়ে ভারতে বহু স্থানে মাইকে আজান দিতে দেয়া হয় না এবং অনেক রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ। এরপরও ভারতকে মৌলবাদী রাষ্ট্র কিংবা বিজেপিকে মৌলবাদী দল বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশে শুধু চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করছে না, সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম-কর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানে সরকার ও সংখ্যাগুরু মুসলমানেরা সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। এর পরও এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও কথিত প্রগতিশীল লোকজন বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার কথিত মৌলবাদীদের সাথে আপস করছে বলে অপবাদ দিচ্ছেন। আসলে তাদের মতলবটা কী?

বিভিন্ন মিডিয়া ও ফোরামে, বিশেষ করে পাশ্চাত্য মিডিয়ায় ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কথা সত্য যে, বিভিন্ন দেশে স্বাধিকার তথা স্বায়ত্তশাসন কিংবা স্বাধীনতার জন্য মুসলমানেরা সংগ্রাম করেছে। এই সংগ্রাম কোথাও সহিংস রূপ নেয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা ন্যায্য দাবিকে দাবিয়ে রাখলে সহিংস রূপ নিতে পারে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করা অন্যায় নয়। Essays on Civil Obedience গ্রন্থে Henry Thoray বলেছেন To be right is more honourable than to be law abiding. অন্য দিকে ফরাসি লেখক ভলতেয়ার বলেছেন It is dangerous to be right when the government is wrong.

যা হোক, সহিংস ঘটনা পাশ্চাত্য দেশেও অহরহ ঘটছে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ‘সোল এজেন্সি’র দাবিদার যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে ও বর্তমানে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটছে।
ফিলিস্তিনিরা তাদের হৃত মাতৃভূমি ও অধিকার পুনরুদ্ধার তথা প্রকৃত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমে, ইসরাইলের নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢিল ছুড়লে সেটাও নাকি ‘সন্ত্রাস’। অথচ ইসরাইল বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিলে কিংবা বোমা মেরে নিরীহ নারী-পুরুষ নিধন করলে তা হয় ‘আত্মরক্ষা’। সন্ত্রাসের কী চমৎকার সংজ্ঞা! একই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করি কাশ্মিরসহ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় স্বায়ত্তশাসনের জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে। সময় এসেছে এই দ্বিমুখী মানসিকতা ও তথ্যসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ওআইসির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেয়ার।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ