শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় বাংলাদেশ এখন শীর্ষে  » «   এবার বনানী থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিখোঁজ  » «   মানুষ অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দী: খালেদা জিয়া  » «   আসামে বাংলাভাষী বিতাড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ  » «   ইসরাইলী সেনার গুলিতে ১ ফিলিস্তিনী নিহত  » «   তীব্র সমালোচনার মুখে ছবিগুলো সরিয়ে নিলো ভারতীয় দূতাবাস  » «   নারায়ণগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গবন্ধু সড়কে হকাররা  » «   আমরা লজ্জা পাচ্ছি, তারা কি পাচ্ছেন একটুও: আসিফ নজরুল  » «   সিলেটে অর্থমন্ত্রীর গাড়ি চাপায় আহত ২০  » «   জিয়ার মাজারের খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করতে ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প  » «   মেয়র আইভী সিসিইউতে  » «   সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে: মির্জা ফখরুল  » «   মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছে সৌদি আরব: খামেনি  » «   বাবার লাশ নিয়ে এক তরুণের বাড়ি যাওয়ার মর্মান্তিক বর্ণনা  » «  

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-অধীনতা

cmড. আবদুল লতিফ মাসুম:রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ- আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের সাংঘর্ষিক অবস্থা ইতিহাসের মতোই পুরনো। সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রজাতান্ত্রিক অধিকার যখন ক্রমশ প্রসারিত হয়েছে, তখন রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। সমাজতাত্ত্বিক তথা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা তিনটি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও সীমারেখা নির্ধারণের জন্য চেষ্টা করেছেন। ফিলমার, হবস্ এবং লক প্রাথমিক পর্যায়ে সমন্বয়ের কথা বলেন। অবশেষে মন্টেস্কু সক্ষমতার সাথে ক্ষমতার স্বাতন্ত্রীকরণে একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ তত্ত্ব দেন। আধুনিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে সেই তত্ত্ব বা নীতিমালা অনুসরণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে উত্তম উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন ক্ষমতার ভারসাম্য বিধান এ জন্য প্রয়োজন যে- নির্বাহী বিভাগ যেন রাষ্ট্রের সমগ্র ক্ষমতার মালিক না হয়ে যায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায়ও ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের একনায়কত্ব’ বা টাইরানি অব দ্যা মেজরিটি এর কথা শোনা যায়। রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, কর্তৃত্ববাদ বা সর্বাত্মকবাদ- সর্বত্র ক্ষমতার একক কেন্দ্রীকতার কারণে নাগরিক সাধারণের মৌলিক স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে আসছে। এই তত্ত্বকথার অনুরণন প্রতিধ্বনিত হলো সুপ্রিম কোর্ট দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগকে সহযোগিতা ও আস্থার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং সহযোগী। দায়িত্বপালনকালে মনে রাখতে হবে, এক বিভাগের কর্মকাণ্ডে যাতে অন্য বিভাগের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় বা জাতীয় স্বার্থ বিঘিœত না হয়। প্রসঙ্গক্রমে রাষ্ট্রপতি অতীতে উচ্চ আদালতের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রপতির মন্তব্য যে কোনো সচেতন নাগরিককে সন্তুষ্ট করবে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আনুষ্ঠানিক ভাষণ এই প্রথম। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সুপ্রিম কোর্ট উদ্বোধন করেন। সে দিবস স্মরণে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হলো। এখন থেকে দিবসটি ১৮ ডিসেম্বরে পালিত হবে। এ বছর সুপ্রিম কোর্টে ছুটি থাকার কারণে দিবসটি পিছিয়ে গেল। বাংলাদেশে দিবস পালনের তালিকায় আরো একটি দিন সংযোজিত হলো। সেখানে রাষ্ট্রপতি প্রথাগত প্রশস্তি না গেয়ে কিছু ভালো কথা বলেছেন- এটা অনেকের কাছে আশা করি ভালো লাগবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি দেশের অলঙ্কারিক প্রধান। নির্বাহী কর্তৃত্বের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা তার সীমিত। অনেক সময় না জানার কারণে আমরা অর্থহীনভাবে প্রশংসা বা নিন্দা করি।

যা হোক রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ভারসাম্যের তথা বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র্যের কথা যা বলেছেন তা প্রশংসামূলক। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, তার এই বক্তব্য ক্ষমতাসীন সরকারের গৃহীত কার্যব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের মানুষ গত এক দশক ধরে লক্ষ করছে যে, রাষ্ট্রব্যবস্থার সব ক্ষেত্রে দলীয়করণ নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে। অবশেষে বাকি ছিল বিচার বিভাগ। ইতোমধ্যে তারা মাসদার হোসেন মামলা-পরবর্তী বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ আদেশ ২০০৭ এর অনেক ব্যতিক্রম ঘটিয়ে নি¤œ আদালতকে কব্জা করেছে। উচ্চ আদালতের যে অবশিষ্ট সম্মান, মর্যাদা ও ক্ষমতা ছিল তা করায়ত্ত করার জন্য ক্ষমতাসীনেরা উদগ্রীব হয়ে ওঠে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত তাদের বিরাগভাজন হওয়ায় তারা সুপ্রিম কোর্টকে নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেয়। বিচারকদের অভিসংশন বা বিচারের দায় সংসদের কাছে অর্পণের জন্য তারা সংবিধানের ষষ্ঠদশ সংশোধনী গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে হাইকোর্ট সে সংশোধনীকে বাতিল বলে রায় দেয়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টেও সরকার হেরে যায়। সুপ্রিম কোর্ট ওই রায়কে শুধু বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং সরকারের সুশাসনের অভাব নির্দেশ করে কোর্ট কিছু পর্যবেক্ষণ দেন। পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতিকে কিভাবে অপমান-অপদস্ত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছেÑ তা যে কোনো সচেতন নাগরিকের কাছে স্পষ্ট। স্বাধীনচেতা এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করার পর আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে সব সর্বনাশের মূল বলে চিহ্নিত করেছেন। এরপর জনমনে এরকম ধারণা জন্মে যে, সরকার সুপ্রিম কোর্টকে এখন পূর্ণ আস্থায় নিতে পারছেন। বিরোধীরা অবশ্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ০১. গত ১১ ডিসেম্বর সরকার বহুল আলোচিত ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা-২০১৭’ জারি করে। এই বিধিমালা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাথে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি বিরোধ চলছিল। হয়তো সরকার সিনহাবিহীন উচ্চ আদালতকে আস্থায় নিতে পারছে।

০২. এই বিধিমালা জারির পরে সরকার আইন ও বিচার বিভাগ থেকে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়ে। উল্লেখ্য, সরকার বিধিমালাটি চূড়ান্ত করতে ২৫ বার সময় নেয়। একপর্যায়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দরকার নেই। যা হোক জুডিশিয়াল সার্ভিস বা নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত বিধিমালায় প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে ওই সময়ে কোনো কোনো আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন। শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম অভিযোগ করেছিলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী এই বিধিমালা জারি হওয়ার কথা, তা হয়নি। বরং তা করা হয়েছে ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী।

০৩. ওই বিধিমালায় কিছু অসঙ্গতি এবং সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ববিরোধী সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। যেমন- সুপ্রিম কোর্ট নিজ থেকে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করলে যে তদন্ত হবে তা একজন জেলা জজের অধীনে না হয়ে একজন যুগ্ম সচিবের অধীনে হবে। নতুন বিধিমালায় দ্বৈত শাসন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার খর্ব হয়েছে ইত্যাদি।

এতসব সমালোচনার পর সরকারপ্রদত্ত নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট গ্রহণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ৩ জানুয়ারি ২০১৮ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই ইতিবাচক আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্ট মনে করেন বিধিমালার গেজেটে সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি বা প্রাধান্য বজায় রাখা হয়েছে। এ সম্পর্কে আদালত সংবাদপত্রে প্রকাশিত মতামতের সমালোচনা করেন। তারা বলেন ‘প্রেসে লেখা হয়েছে শৃঙ্খলা বিধিমালায় সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। কিন্তু সেটা ঠিক নয়।’

উল্লেখ্য, পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিষয়টির সুরাহা করতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে বৈঠকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আইনমন্ত্রী নানা ব্যস্ততার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। সিনহার পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়হ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে যেসব বিষয়ে মতবিরোধ ছিল তা নিরসন হয়েছে বলে জানানো হয়। গত ১১ ডিসেম্বর শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ৩ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল বিধিমালা পড়তে গেলে মাসদার হোসেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে রিভিউ আবেদন করব। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী রুলস তৈরি করবে হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর গেজেট তৈরি হবে। ০৪. এর পরদিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ওই মামলা থেকে ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৩ জানুয়ারি বৈঠকের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ছয়জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সমিতির বিবৃতিতে বলা হয় ‘ড. কামাল হোসেনসহ ছয় আইনজীবী মাসদার হোসেন মামলাকে রাজনীতিকরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।’ বিবৃতিটি কী উদ্দেশ্যে কেন দেয়া হয়েছে, তা যে কোনো সাধারণ মানুষ তা বুঝতে সক্ষম।

ষষ্ঠদশ সংশোধনী থেকে আজ পর্যন্ত সঙ্ঘটিত ঘটনাবলি প্রমাণ করে, গত এক দশক ধরে আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে নীরব অথবা সরব দ্বন্দ্ব বিরাজমান। সরকারপক্ষ জাতীয় সংসদ দিয়ে বিচারকদের অভিশংসনকরণের মাঝে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব খুঁজছেন। অপর দিকে, আইনজীবী সমিতিগুলো, শীর্ষ আইনজীবীরা এবং সচেতন সিভিল সোসাইটি ক্রমেই বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের সরকারি প্রবণতার মাঝে অশনিসঙ্কেত লক্ষ করছেন। দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা সংবাদপত্রে দেয় এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মূলত ষষ্ঠ সংশোধনী থেকে প্রধান বিচারপতির বিদায় পর্যন্ত ঘটনাবলি এবং পরবর্তীকালে অধস্তন বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিনিষেধ এবং অবশেষে বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিল এবং সর্বোচ্চ আদালত দেয় পর্যবেক্ষণ বাতিলে সরকারের আবেদন- বিচার বিভাগের জন্য সুস্পষ্ট হুমকির সৃষ্টি করেছে। রায় পুনর্বিবেচনার জন্য দরখাস্ত করা কোনোভাবেই বেআইনি কিছু নয়। কিন্তু ষষ্ঠ সংশোধনী নিয়ে গোটা দেশে যে পরিবেশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিঃসন্দেহে ক্ষুণ্ন করেছে। দেশে কার্যত এখন কোনো প্রধান বিচারপতি নেই। এটি দেশের আইন ও সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রবীণ আইনজীবী ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারকেরা সরকারের কালক্ষেপণের এই কৌশলকে ন্যায়সঙ্গত নয় বলে মতামত দিয়েছেন। বিজ্ঞ পর্যবেক্ষক মনে করেন সরকার এ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে স্বস্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়।

আগামী দিনে সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তবলি প্রমাণ করবে সত্যিকার অর্থে দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে, নাকি বিচার বিভাগ আর সব বিভাগের মতো অধীনতামূলক মিত্রতাকে গ্রহণ করে আত্মতুষ্টি লাভ করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র মূলত সমার্থক। যত দিন পর্যন্ত আইন বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগ থেকে ভারসাম্যপূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখবে তত দিন নাগরিক সাধারণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। ক্ষমতা বিভাজনের তাত্ত্বিক মন্টেস্কু তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘স্পিরিট অব লস’-এ বলেন, ‘দেয়ার ইজ নো লিবার্টি ইফ দি পাওয়ার অফ জাজিং বি নট সেপারেটেড ফ্রম দি লেজিসলেটিভ অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ পাওয়ার্স’। বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪(৪), ১১৬ এ এবং ১৪৭ ধারায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের রাষ্ট্র নেতৃত্ব ‘কথায় বড় না হয়ে, কাজে বড় হলে’ই দেশের মঙ্গল।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ