শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় বাংলাদেশ এখন শীর্ষে  » «   এবার বনানী থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিখোঁজ  » «   মানুষ অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দী: খালেদা জিয়া  » «   আসামে বাংলাভাষী বিতাড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ  » «   ইসরাইলী সেনার গুলিতে ১ ফিলিস্তিনী নিহত  » «   তীব্র সমালোচনার মুখে ছবিগুলো সরিয়ে নিলো ভারতীয় দূতাবাস  » «   নারায়ণগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গবন্ধু সড়কে হকাররা  » «   আমরা লজ্জা পাচ্ছি, তারা কি পাচ্ছেন একটুও: আসিফ নজরুল  » «   সিলেটে অর্থমন্ত্রীর গাড়ি চাপায় আহত ২০  » «   জিয়ার মাজারের খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করতে ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প  » «   মেয়র আইভী সিসিইউতে  » «   সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে: মির্জা ফখরুল  » «   মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছে সৌদি আরব: খামেনি  » «   বাবার লাশ নিয়ে এক তরুণের বাড়ি যাওয়ার মর্মান্তিক বর্ণনা  » «  

ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে আরো ১,১০০টি বসতি নির্মাণ করবে ইসরাইল!

187936_1

তেল আবিব: অধিকৃত জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে আরো ১,১০০ নতুন বসতি স্থাপনের জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে বলে স্থানীয় একটি এনজিও জানিয়েছে।

পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ইহুদি বসতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ‘পিস নাউ’ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

বসতি নির্মাণের প্রক্রিয়া অনুমোদনের দায়িত্বে নিয়োজিত একটি ইসরাইলি সামরিক বিষয়ক কমিটি বুধবার এ নির্দেশ দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।

পিস নাউ সংস্থাটির পরিচালক হাজিত অফরান বলেছেন, এরইমধ্যে ৩৫২টি বসতি নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে এবং বাকিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ বসতি পশ্চিম তীরের গভীরে নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বসতি নির্মাণের জন্য ইসরাইল প্রয়োজনে বহু ফিলিস্তিনি বাড়িঘর উচ্ছেদ করছে। ইসরাইলের এ আচরণ কথিত দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভবিষ্যত যে হুমিকর মধ্যে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংযুক্ত প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল
জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত রেখেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এরই অংশ হিসেবে বুধবার পশ্চিম তীরের নাবলুসের সঙ্গে সংযুক্ত প্রধান একটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াফা নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গুলিতে একজন ইসরাইলি সেটেলার নিহত হওয়ার পর ‘হুয়ারা চেকপয়েন্ট’ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় পশ্চিম এবং রামাল্লার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীরা দীর্ঘ ও বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এছাড়াও, ক্রিসমাসের প্রাক্কালেও পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লা ও আল-বিরেহের প্রবেশপথ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয় ইসরাইল।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতের ওই হত্যার প্রতিশোধ নিতে নাবলুস ও এর পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতির পাশাপাশি তেল আবিব থেকে তার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর থেকে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা স্ট্রিপে বিক্ষোভ ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

তারপর থেকে এপর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ১৩জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তবে, আনঅফিসিয়াল পরিসংখ্যানে নিহতদের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে হতে পারে। এছাড়াও, অন্তত ২,৯০০ জন আহত হয়েছে এবং ৪০০ জনেরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে।

সূত্র: সিয়াসাত ডটকম

জেরুজালেম ‘বিক্রির জন্য নয়’: ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র
অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি পাওয়ার পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় বলেছে, জেরুজালেম ‘বিক্রির জন্য নয়’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন।

এট টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার দেই। কিন্তু বিনিময়ে কোনো সম্মান পাই না। ফিলিস্তিনিরা যেহেতু আর আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়, তাহলে কেন আমরা ভবিষ্যতে তাদের এত সহায়তা দেবো?’

এর আগে গতমাসে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তখন বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।

ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদাইনা এএফপিকে বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের চিরন্তন রাজধানী হলো জেরুজালেম এবং এটা সোনা কিংবা অর্থের বিনিময়ে বিক্রয়যোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনার টেবিলে ফিরে যাবার বিরোধী নই। কিন্তু তা হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির ভিত্তিতে, যেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও পূর্ব জেরুসালেমকে ঐ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে ৩১৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিল।

 

যুক্তরাষ্ট্রকে রুখতে পাকিস্তানের পাশে ইরান

1515427482_12

যুক্তরাষ্ট্রকে রুখতে এবার পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে অন্য মুসলিম দেশগুলোকেও ইসলামাবাদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। রবিবার তেহরানে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়া›র সঙ্গে বৈঠকের পর এ আহ্বান জানান ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
আলী শামখানি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন কপটতা, দ্বিচারিতা ও বিদ্বেষী নীতি মোকাবিলা করতে হবে। এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। শুধু পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে নয়; বরং সব মুসলিম দেশের মধ্যেই সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ভাড়া করে ও অস্ত্র দিয়ে কিছু দেশ সীমান্তকে অনিরাপদ করে তুলবে এবং তেহরান-ইসলামবাদ সম্পর্কে ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে; এমনটা হতে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়া বলেন, তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে ইসলামাবাদ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণার পর আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে মার্কিন সেনাদের রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রস্তাবটি নিয়ে কূটনীতিক এবং বেসামরিক ও সামরিক নেতাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আমরা শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো। তবে পাকিস্তানি কূটনীতিকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিপরীতে এটি একটি ভালো কৌশল। আমাদের হাতে এই অস্ত্র রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে এসব পথ দিয়ে আফগানিস্তানে খাদ্য ও যন্ত্রপাতি আনা নেওয়া করে থাকে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তান বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। আর এরপর থেকে দেশটির বিরোধী দলগুলো সরকারকে এমন উদ্যোগ নিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে পাকিস্তান। এছাড়া পাকিস্তানকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার ট্রাম্পের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দেশটি। ইসলামাবাদ বলছে, তারা নিজ দেশ ও বিশ্বের শান্তি বজায় রাখতে নিজের সম্পদ ব্যবহার করে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই করে আসছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ