শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় বাংলাদেশ এখন শীর্ষে  » «   এবার বনানী থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিখোঁজ  » «   মানুষ অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দী: খালেদা জিয়া  » «   আসামে বাংলাভাষী বিতাড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ  » «   ইসরাইলী সেনার গুলিতে ১ ফিলিস্তিনী নিহত  » «   তীব্র সমালোচনার মুখে ছবিগুলো সরিয়ে নিলো ভারতীয় দূতাবাস  » «   নারায়ণগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গবন্ধু সড়কে হকাররা  » «   আমরা লজ্জা পাচ্ছি, তারা কি পাচ্ছেন একটুও: আসিফ নজরুল  » «   সিলেটে অর্থমন্ত্রীর গাড়ি চাপায় আহত ২০  » «   জিয়ার মাজারের খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করতে ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প  » «   মেয়র আইভী সিসিইউতে  » «   সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে: মির্জা ফখরুল  » «   মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছে সৌদি আরব: খামেনি  » «   বাবার লাশ নিয়ে এক তরুণের বাড়ি যাওয়ার মর্মান্তিক বর্ণনা  » «  

বিক্ষোভের ভয়েই কী ট্রাম্প তার লন্ডন সফর বাতিল করলেন

l লন্ডনে নতুন মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের জন্য ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেন সফরে আসার কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই সফর বাতিল করেছেন।

লন্ডনে আসলে তাকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশংকা এবং এই সফরকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরের মর্যাদা দেয়া হবে না- এসব বিবেচনাতেই তিনি এই সফর বাতিল করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় দাবি করছেন লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস যেভাবে নতুন জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে সেটা তিনি পছন্দ করেন নি। সেজন্যেই তিনি এই দূতাবাস উদ্বোধন করতে আসছেন না।

তিনি বলেছেন, লন্ডনের সবচেয়ে দামি একটি এলাকা থেকে ভক্সহলে যেখানে মার্কিন দূতাবাস নেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়ে তিনি ফিতা কেটে এটি উদ্বোধন করবেন, তার প্রশ্নই উঠে না।

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাস ছিল নগরীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে অভিজাত এলাকা মেফেয়ারে, ট্রাফালগার স্কোয়ারের অদূরে। সেখান থেকে মার্কিন দূতাবাস এখন সরিয়ে নেয়া হয়েছে দক্ষিণ লন্ডনে টেমস নদীর ধারে এক বিশাল নতুন ভবনে, যেটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

ট্রাম্প তার পূর্বসূরী বারাক ওবামাকে দোষারোপ করে বলেছেন, দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার এই পরিকল্পনাটি ছিল খুবই বাজে। যদিও এই দূতাবাস সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিলে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবর্তে এখন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন নতুন মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করতে আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প তার টুইটার বার্তায় যে দাবিই করুন, তার সফর বাতিলের পেছনে অন্য কারণ আছে বলে সন্দেহ করেন অনেকে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যখন তাকে এক রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই এর তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল ব্রিটেনে।

ব্রিটেনের বামপন্থী দল এবং গোষ্ঠীগুলো হুমকি দিয়েছিল যে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করবে এবং পুরো লন্ডন অচল করে দেবে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান থেকে শুরু করে এমনকি ক্ষমতাসীন কনজারাভেটিভ পার্টিরও কোন কোন এমপি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানোর বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ এবং অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন।

বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক জন সোপেল বলছেন, লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভের বিষয়টি এই সফর বাতিলের একটি সম্ভাব্য কারণ বলে সন্দেহ করেন তিনি।

টেরিজা মে যখন ব্রিটেনের রাণীর পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই এটি প্রত্যাহারের জন্য তাঁর ওপর চাপ বাড়ছিল।

এই আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের জন্য অনলাইনে একটি দরখাস্তে এ পর্যন্ত ১৮ লাখ মানুষ সই করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে।

গত জুনে কোন কোন খবরে বলা হচ্ছিল লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ এড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরটি পিছিয়ে দেয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে ব্রিটেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উডি জনসন গত মাসে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালেই লন্ডন সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ