শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় বাংলাদেশ এখন শীর্ষে  » «   এবার বনানী থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিখোঁজ  » «   মানুষ অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দী: খালেদা জিয়া  » «   আসামে বাংলাভাষী বিতাড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ  » «   ইসরাইলী সেনার গুলিতে ১ ফিলিস্তিনী নিহত  » «   তীব্র সমালোচনার মুখে ছবিগুলো সরিয়ে নিলো ভারতীয় দূতাবাস  » «   নারায়ণগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গবন্ধু সড়কে হকাররা  » «   আমরা লজ্জা পাচ্ছি, তারা কি পাচ্ছেন একটুও: আসিফ নজরুল  » «   সিলেটে অর্থমন্ত্রীর গাড়ি চাপায় আহত ২০  » «   জিয়ার মাজারের খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করতে ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প  » «   মেয়র আইভী সিসিইউতে  » «   সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিবে: মির্জা ফখরুল  » «   মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছে সৌদি আরব: খামেনি  » «   বাবার লাশ নিয়ে এক তরুণের বাড়ি যাওয়ার মর্মান্তিক বর্ণনা  » «  

‘যিশু ঈশ্বরের পুত্র এবং তিনিই ঈশ্বর-এই ধারণা আমাকে সন্তুষ্ট করেনি’

45আমি ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইসলামে ধর্মান্তরিত হই। আমি ক্যাথলিক হিসেবে বড় হয়েছি এবং আমি ছিলাম একজন গোঁড়া ক্যাথলিক। আমি খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয়ার মাধ্যমে এ বিষয়ে শিক্ষা দিতাম এবং চার্চে খুবই সক্রিয় ছিলাম।

এই সময়ে আমার জীবন সম্পর্কে আমার মনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিতে শুরু করে এবং আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পেতে চার্চের শরণাপন্ন হই এবং এই কারণে আমি সেখানে অনেকের প্রতিরোধের সম্মুখীন হই।

চার্চ থেকে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় আমি কিছু দিন সময় নিয়ে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার সিদ্ধান্ত নেই। আমি ইহুদি ধর্ম, হিন্দুধর্ম, তাওবাদ, জৈন ধর্ম এবং অবশেষে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গবেষণা করি।
ইসলাম গ্রহণ করার পর আমার জীবনে ভিন্নতা আসে। এ পর্যন্ত আমার জীবনে পাওয়া সবচেয়ে সুন্দর জিনিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমার ইসলাম গ্রহণ। একই সঙ্গে এটি আমার জন্য তার নিজের ‘কষ্টের ন্যায্য পাওনা’ নিয়ে এসেছে। আমার পরিবার ইসলাম গ্রহণ করেনি। তাই তারা আমার সঙ্গে কথা বলেন না এবং ফলস্বরূপ, তারা আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।

চাকরি হারিয়ে আমাকে কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে। অর্থের অভাবে আমাকে আমার কলেজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমি ছিলাম কলেজের সেরা ছাত্রীদের মধ্যে একজন।

জীবনে কোনো কিছুই স্থিতিশীল নয়। আপনার অনেক টাকা থাকতে পারে, আপনার কাজ থাকতে পারে, আপনার পারিবার থাকতে পারে, আপনার অনেক কিছুই থাকতে পারে এবং এগুলো একসময় চলেও যেতে পারে। কিন্তু ধর্ম সবসময়ই স্থায়ী একটি জিনিস যা আপনার কাছে আছে। সুতরাং, আপনার জীবনে কোনো কষ্ট বা অসুবিধা নেমে আসলে আপনার উচিৎ হবে তাৎক্ষণিক আপনার ঈশ্বরের কাছে যাওয়া।

প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য চার্চে গেলাম এবং বলা হলো যে, ‘ঈশ্বর এভাবেই বলেছেন এবং তা নিয়ে আমাদের এই প্রশ্ন করা উচিত নয়’। এটা এমন কিছু যা আসলেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি আমার উত্তর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি এর জন্য কোথায় যাব?

মূল দ্বন্দ্ব হচ্ছে যে আপনি ‘ট্রিনিটি’তে বিশ্বাস করেন (খ্রিস্ট ধর্মে এক ঈশ্বর হিসাবে: পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মাকে ট্রিনিটি বলে) এবং যিশু ঈশ্বরের পুত্র এবং তিনিই হচ্ছেন ঈশ্বর। আপনি যখন বিষয়টি একটু গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এটি আসলেই কোনো অর্থ তৈরি করে না।

ইসলাম সম্পর্কে দীর্ঘ সময় নিয়ে আমি অধ্যয়ন করেছি। ইসলাম সম্পর্কে আমার ভিতরেও অনেক ভুল ধারণা ছিল এবং এক পর্যায়ে আমি মুসলমানদেরকে ঘৃণা করতাম। আমি মনে করতাম যে সকল মুসলমানদের মরে যাওয়া উচিৎ এবং মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকা উচিৎ নয়, তাদেরকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো দরকার। ইসলাম নিয়ে আমার মতো এই ধারণাটি আমেরিকায় খুবই সাধারণ একটি ধারণা। কিন্তু এটি ছিল আমার নিজের অজ্ঞতা।

আমি প্রায়ই একটি উদ্ধৃতি দিয়ে থাকি আর তা হচ্ছে, ‘সত্যের পথের জন্য ভয় পাওয়া উচিৎ নয়’। এটি এমন কিছু জিনিস যা খুবই শক্তিশালী। যদি আমার কোনো পরিবার না থাকে, যদি আমার কোনো বন্ধু থাকে না, যদি আমার সবচেয়ে বড় বাড়ি থাকে কিংবা কোনো বাড়ি না থাকে, যদি আমার কাছে বিশ্বের সব টাকা থাকে কিংবা কোনো টাকা না থাকে … এর সবই ঠিক আছে কারণ আমার কাছে আল্লাহ রয়েছেন।

আল্লাহর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এবং তার সান্নিধ্যে আসা নিয়ে আমি চিন্তা করতে পারি এবং ইনশাল্লাহ, আমি অবশ্যই জান্নাতে তাকে দেখতে পাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ