সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে সুরমায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত  » «   সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন হাসিনা  » «   টার্নিং পয়েন্ট খালেদার মামলা  » «   এবার সৌদি-ইসরাইল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত  » «   ভারতীয় স্কুলগুলোতে কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিলেন মানেকা গান্ধী  » «   প্রত্যাশিত দেশ গড়তে চাই কাঙ্খিত নেতৃত্ব : শিবির সেক্রেটারি  » «   ঢাবি সিনেটে বিএনপিপন্থীদের ভরাডুবির কারন ফাঁস !  » «   সিলেটের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার  » «   ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন  » «   কবে, কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি?  » «   যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়  » «   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার  » «   এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি  » «   এমপিপুত্রের শেষ স্ট্যাটাস ‘তোর জন্য চিঠির দিন..’  » «   নেতানিয়াহুর গ্রেফতার দাবিতে ইসরাইলে লাখো জনতার বিক্ষোভ  » «  

নড়াইলে আ’লীগ নেতা হত্যার দায়ে ৯জনের মৃত্যুদণ্ড

r7নড়াইল জেলা সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রভাষ রায় ওরফে হানু হত্যার দায়ে একই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৯জনকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

রোববার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবদুর রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে সকল আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— নড়াইল জেলা সদরের মীরাপাড়া গ্রামের মৃত মজিদ মিনার দু’ছেলে ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাহিদুর রহমান মিনা ওরফে সহিদ (৫২) ও মো. ইলিয়াছ মিনা (৫৬), ইউপি চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান মিনার ছেলে মো. আশিকুর রহমান মিনা ওরফে আশিক (২২), মোশারফ মিনার ছেলে মো. রাসেল মিনা (৩০), স্থানীয় আটেরহাট গ্রামের মৃত হারান মোল্লার ছেলে এনায়েত মোল্লা (৫৩), মীরাপাড়া গ্রামের মতিয়ার মোল্লার ছেলে ইয়াসিন মোল্লা (২৪), পলইডাঙ্গা গ্রামের মুসা মিনার ছেলে মামুন মিনা (২৮), মীরাপাড়ার মৃত হাতেম মোল্লার ছেলে বাশার মোল্লা (৩০) ও মোশারফ মোল্লার ছেলে রবিউল মোল্লা ওরফে রবিউল শেখ (২৫)।

রায় ঘোষণা শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি প্রভাষ রায় ওরফে হানু বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাহিদুর রহমান মিনা ওরফে সহিদ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। নির্বাচনে সাহিদুর রহমান মিনা ওরফে সহিদ জয়লাভ করে। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যানের সমর্থকরা প্রভাষ রায়ের বাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় প্রভাষ রায় চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় তাদের হুমকিতে ভয়ে হানু পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থানীয় কুড়িগ্রামস্থ ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেন। এক পর্যায়ে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল হানু নড়াইল জেলা সদর থেকে স্বরস্বতী পূঁজা উপলক্ষে ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুজ্জামান ফকিরের সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে বিভিন্ন পূঁজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মীরাপাড়া বাজারে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে ফারুকের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান বিশ্বাসের কথা বলছিলেন। এ খবর পেয়ে চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা একটি বড় ছোরা প্রভাষ রায়ের পেটে ঢুকিয়ে দেয় এবং এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রভাষ রায় মারা যান।

এ ঘটনায় প্রভাষ রায়ের স্ত্রী টুটুল রানী রায় ওরফে ঘোষ বাদী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান মিনা ওরফে সহিদ তার ভাই মো. ইলিয়াছ মিনা এবং ছেলে আশিকুর রহমান মিনা ওরফে আশিকসহ ৯জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরো ৫/৭জনকে আসামি করা হয়।

ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার এসআই ভবতোষ রায় ৯জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ১৮জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

গত বছরের ১৩ জুন মামলাটি নড়াইল থেকে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ৩ জুলাই আদালত মামলার চার্জ গঠন করেন। এরপর রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট শেখ এনামুল হক।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ