বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
শেখ হাসিনার ‘ফটোজেনিক মেধাবী’ জিনিসটি আসলে কী?  » «   সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হবে : শিবির সভাপতি  » «   খালেদার বক্তব্য বিকৃত করে রায় দিয়েছেন আখতারুজ্জামান!  » «   একজন ভাষাসৈনিক গোলাম আজম এবং আমার ভাবনা  » «   আগামী বছর নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি  » «   ধনীদের আরো বেশি কর দেয়া উচিত: বিল গেটস  » «   খালেদা ভোটের যোগ্যতা হারালে কিছু করার নেই: কাদের  » «   তারেকের স্ত্রী, কন্যার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনের খবর  » «   খালেদার জামিন আবেদনের আগেই কপি চান অ্যাটর্নি জেনারেল  » «   ব্যাংকে জালিয়াতির কোনো ঘটনায় ছাড় দেয়া হয়নি: তোফায়েল  » «   বাংলাদেশকে কেউ আর অবহেলার সাহস পায় না: প্রধানমন্ত্রী  » «   বাসের ধাক্কায় ৪ অটোযাত্রী নিহত  » «   ২১ গুণীজনকে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ভারতের দুর্ভাগ্য যে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় আছে: মমতা  » «   খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি বৃহস্পতিবার  » «  

জাতীয় ঐক্য গঠন করার প্রক্রিয়ায় পা বাড়িয়েছি : ড. কামাল হোসেন

358707_1

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জীবনের শেষ কাজ হিসেবেই জাতীয় ঐক্য গঠন করার প্রক্রিয়ায় পা বাড়িয়েছি। আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া বা ইচ্ছে নাই।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশের বিল্পবী পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

কামাল হোসেন বলেন, এখনকার ছাত্রদের মধ্যেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। দেশের সবাই রাজনীতিবিমূখ হয়ে যাচ্ছে। অথচ ভাষা আন্দোলন ছিল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন। একাত্তরে দেশ স্বাধীনের মাধ্যমে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের বিজয় হয়েছে। অথচ এখন দেশের মানুষের মধ্যে একটা অসহায় ভাব। গণতন্ত্র তো আমাদের দেশে থাকার কথা। সংবিধানের বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত দলিলটি এখনো যাদুঘরে সংরক্ষিত। আমাদের সবার মিছিল নিয়ে গিয়ে দেখা দরকার দলিলটা আসলে আছে কি না তা দেখা দরকার। সংবিধানে কী কী রয়েছে সেগুলো এখন মানুষের মধ্যে তুলে ধরা দরকার। সংবিধান মতে, জনগণই দেশের মালিক। মালিকের শুধু অধিকার থাকে না। কর্তব্য আরো বেশি। দেশে যা ঘটছে তাতে কেউ নিষ্ক্রিয় থাকলেও তিনি দায়ী থাকবেন। কারণ তিনিও দেশের মালিক। এছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে যাবে। নাগরিকের অনেক গুরুত্ব দেয়া আছে সংবিধানে তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না। পাঁচ বছর পরে শুধু একটি ভোট দিয়ে বিচার করবেন তা তো হয় না। এর চেয়ে বেশি সংকট আর হতে পারে না। অথচ ষাটের দশকের দিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঐক্য গড়ে উঠেছিল। দেশে সুস্থ্য রাজনীতির কোনো বিকল্প নাই।

এ রাজনীতিক বলেন, কেউ যদি ক্ষমতায় থেকে অন্যায় করেন আর মালিকরা যদি অপরাধীদের কিছু না বলেন সেটি হবে দায়িত্বহীনতা। কারণ আমরা তাদের শুধু প্রতিনিধি বানিয়েছি। দেশের ১৬/১৭ কোটি মানুষ যদি সংঘবদ্ধ হতে পারে তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে।

ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর দেশে এসেই বলেছিলেন, স্বাধীনতা এদেশের মানুষদের ঐক্যের ফসল। জনগণের ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে স্বাধীনতা রক্ষা করা যাবে না। ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ জীবনের শেষ কাজ বলে পা বাড়িয়েছি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। দেশের মালিকের কাছে তাদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিতে হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বক্তব্যে বলেন, কোন সরকার জাতিকে উন্নত করতে পারেন না। জাতি উন্নত করতে প্রয়োজন বিরোধী দল। হিসেবে ধরতে গেলে বিএনপিকেই বিরোধী দল হিসেবে ধরতে হবে। কিন্তু খালেদা জিয়ার (বিএনপি) মত বিরোধী দল না থাকলেই ভাল হতো।

ড. কামালকে উদ্দেশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনি যদি জাতিকে পথ দেখাতে না পারেন, জাতিকে উদ্ধার করতে না পারেন তবে মানুষ ভালোভাবে নেবে না। হাতে কোনো সময় নেই। সবাইকে নিয়ে ঘর ভুলে রাস্তায় নামতে হবে।

উৎসঃ   নয়াদিগন্ত
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ