রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা জাতিসংঘের  » «   এবার উত্তরসহ প্রশ্নফাঁস  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক  » «   যুক্তরাজ্যে দেশজুড়ে পালিত হবে ‘ভিজিট মাই মস্ক’  » «   পুলিশকে গুলি: জড়িতরা যুবলীগ-ছাত্রলীগের  » «   মাধবপুরে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   ড্র করে সিলেটের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ  » «   বিএনপি কেন গণস্বাক্ষর-মানববন্ধনের পথে?  » «   সিলেটের কানাইঘাটে গৃহবধূ খুন, আটক ২  » «   ওবায়দুল কাদেরের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে : রিজভী  » «   দিনবদলের মার্কাই হচ্ছে এরশাদের লাঙল: বাবলা  » «   ফের আলোচনায় ‘কাউয়া’  » «   সৌদি জোটের অবরোধ ‘নিষ্ফল’ : কাতারের আমির  » «   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৮  » «   ‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী’  » «  

সামাজিক অবক্ষয় রোধে আমাদের করণীয়

untitled-1 copy_211

আখতার হোসাইন : অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ক্ষয়প্রাপ্তি’। সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, কর্তব্য পরায়নতা, নিষ্ঠা, ধৈর্য, উদারতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলী লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে সামাজিক অবক্ষয়।
আজকের পৃথিবীর দিকে তাকালে দেখতে পাই বিশ্বব্যাপী পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে অবক্ষয়ের ছাপ। নৈতিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ভীতসন্ত্রস্ত, অশান্তি ও অস্থিরতা বাড়ছে পুরো পৃথিবী জুড়ে। ফলে পারিবারিক কলহ, অবাধ যৌনাচার, অশ্লীলতা, যৌন বিকৃতি, কুরুচিপূর্ণ  ও বহুকামিতার মতো পশুসুলভ যৌন আচরণ সমাজকে নিয়ে যাচ্ছে অবক্ষয়ের দ্ধারপ্রান্তে।
সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুক, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার খবরের প্রায় ৫০% খবরই সমাজিক অবক্ষয়ের। পত্রিকা পাতা খুললেই চোখে পড়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, প্রেমিকার হাতে প্রেমিক খুন, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, ছেলের হাতে মা খুন, দোলা ভাইয়ের হাতে শালী খুন, পুত্রের হাতে পিতা খুন ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার খুন, ধর্ষণ, গুমের খবরও কম নয়। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের খবর দেশের সর্বত্রই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
যেখানে নৈতিকতা অনুপস্থিত সেখানে সামাজিক অবক্ষয় সবচেয়ে বেশী। দেশের সর্বাঙ্গে আজ নৈতিকতার অনুপস্থিতির কারণে এ অবক্ষয় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নীপিড়নে স্বীকার, পদ পদবীর লোভে মানুষ নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।  সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হচ্ছে, দেশের সর্বত্র মাদকের জয় জয়কার ধ্বনি। দেশে যে প্রান্তে থাকুক না কেন মাদক যুব সমাজকে গ্রাস করছে। মাদকাশক্ত ব্যক্তিরাই সমাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি করছে। বিবাহ বন্ধনে গঠিনতম পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক, বিবাহ পূর্ব সম্পর্ক, বিবাহ পরে পরকীয়া, যথাসময়ে বিবাহ সম্পন্ন না হওয়া, একক সিদ্ধান্তে বিবাহ দেয়া ইত্যাদি সমাজের রন্দ্রে রন্ধ্রে প্রবিষ্ট হয়ে গেছে যার কারণে সমাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়াও সম্পদের লোভ, ন্যায় বিচারের অনুপস্থিতি, সহশিক্ষা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, নারীদের বৈচিত্রময়, উলঙ্গ, অর্ধউলঙ্গ পোষাক ও সমাজে হালাল হারামের অনুপস্থিতি সামাজিক অবক্ষয়ের মূল কারণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস ববুকের মাধ্যমে এই সামাজিক অবক্ষয় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে যুব সমাজ আরো বেশী এ অবক্ষয়ে পা বাড়াচ্ছে। পর্ণোগ্রাফি, ভিড়িওগ্রাফি ছাড়াও বর্তমান সময়ে কুরুচিপূর্ণ ভিড়িও আপলোড করে ফেইসবুকে যা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। যুব সমাজের হাতের মুঠোয় আজ বিশ্ব। ডিজিটাল এ যুগে ফেইস বুক একাউন্ট প্রতিটি যুবকেরই আছে। ফেইসবুকে নগ্ন এসব ভিডিও দেখে তরুণপ্রজন্ম অবক্ষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
এ সব ফুটেজগুলোতে অংশ নেয়া ছেলে-মেয়েরাও যেমন এ সমাজের অংশ। তেমনি যারা এর ক্রেতা তারাও এ সমাজেরই অংশ, এর সিংহভাগই আবার তরুণ প্রজন্ম। যারা স্বাধীনতার নামে আধুনিকতার দোহাই দিয়ে বেহায়াপনার শেষ সীমা অতিক্রম করে চলেছে নিত্য। আমরা জেনেও এর প্রতিকারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করে বরং তাদের সহযোগিতাই করে চলেছি দায়িত্বজ্ঞানহীন অপদার্থের মতো। যে ছেলেটি তার মোবাইলে এই ভিডিও ফুটেজগুলো দেখে রাস্তায় বের হয় তার কাছে সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েটি আর ফুটেজে দেখা মেয়েটিকে একই মনে হবে এটাই স্বাভাবিক। আর তখন যে সে ওই মেয়েটিকে হেনস্তা করতে চাইবে; ইভটিজিং করবে এটাও কি স্বাভাবিক নয়? আমাদের নাটক-সিনেমার গানে তুমি-আমি ছাড়া কিছু নেই। মোবাইল কোম্পানিগুলো তাদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেটাকে উসকে দিচ্ছে আরও। ভাবখানা এমন, যেন বন্ধু পাশে থাকলেই হলো আর কারো প্রয়োজন নেই, বন্ধুত্ব মানেই প্রেম। প্রেমের জন্যই জীবন, আর প্রেম মানেই বেহায়াপনা। জীবনের আর কোনো লক্ষ্যই নেই! ঠিক একইভাবে ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক, ফেসবুক মানেই ফেক আইডি আর মিথ্যের ছড়াছড়ি! বন্ধুত্ব-প্রলোভন, প্রেম অতঃপর বাস্তবতার ঘাড়ে রক্তাক্ত অন্তর। এরপরে নেশা। বলে রাখা ভালো, ফেসবুকেও আছে জ্ঞানগর্ভ অনেক ভালো ভালো পাতা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো তার পাঠক সংখ্যা নেহায়েতই নগণ্য। এই ভাবে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে যুবসমাজ অবক্ষয়ের পথে এগিয়ে চলেছে।
আবার নারীদের পোষাক ও চলাফেরার ক্ষেত্রেও অবক্ষয়ের কারণ। দেশের প্রতিটি পার্ক ও দর্শনীয় স্থান গুলোতে প্রেম বিনিময়, প্রেমিক প্রেমিকা জুটি বেঁধে প্রকাশ্য অসমাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। আবার আলো-আধারী কিছু হোটেল, মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, সাইবার ক্যাফ গুলোতেও অসামাজিক কার্যকলাপ নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান গুলোতে ২৪ঘন্টাই অসামাজিক কার্যকলাপ চললেও আইনের কোন প্রয়োগ নেই। খ্যাতিমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ইভটিজিং, নারীদের উত্্যক্ত করণ, খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে যে কোন পার্কের পরিবেশ এমনই যে সাধারণ মানুষ ইতস্ততবোধ করতে বাধ্য হয়। সংস্কৃতির আগ্রাসান ও অপসংস্কৃতির কারনেও সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেল জি সিনেমা, স্টার প্লাস, স্টার জলসা, সিআইডি ইত্যাদি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যা সম্প্রচার করা হয় তা থেকে সমাজের শিখার কিছুই নেই বরং ভাবীর সাথে দেবরের সম্পর্ক, পরকীয়া, ননদ-ভাবীর ঝগড়া, বউ-শাশুড়ীর অমিল, সম্পদের ভাগ-ভাটোয়ারা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ ইত্যাদি শিক্ষাই বেশী শিখছে। ফলে তা সমাজের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত।
নৈতিকতার শিক্ষার অভাব আবার সহশিক্ষা ও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে যৌন উন্মাদনার শিক্ষা প্রদানও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ। ৬ষ্ট, ৭ম, ৮ম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে যৌনতা কিংবা তার অনুভূতি জানার কথা নয়। কিন্তু গার্হস্থ্য অর্থনীতির ও সামাজ পাঠ্য বইয়ে যৌতনতার অনুভূতি সৃষ্টির কতক শব্দ ও ধারণা দিয়ে এ সব কোমলমতি শিশুদের যৌনতার দিকে ধাবিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক অবক্ষয়ের কিছু চিত্র যা ভয়ালরূপ ধারণ করেছে। ২০১০ সালের ২১জুন রাজধানীর আদাবরে মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় মা আয়েশা হুমায়রা নিজের হাতে খুন করে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু সন্তান খন্দকার সামিউলকে। একই কারণে গত ৩১ অক্টোবর মধ্যরাতে বাড্ডায় মা আরজিনা হত্যা করে ৯ বছরের শিশু নুসরাতকে। নুসরাত হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কাকরাইলে আলমগীর কবিরের নির্দেশে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী শামসুন্নাহরকে। আর মা হত্যার দৃশ্য দেখে ফেলায় নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় ছেলে শাওনকে। হত্যার পিছনে অবৈধ সম্পর্ক ও পারিবারিক কলহ। এছাড়াও গত বছর রাজধানীর বনশ্রীতে মাহফুজা নামের এক মা তার ১২ বছর বয়সী অরনী ও ৭বছর বয়সী আলভীকে হত্যা করে। পরকীয়া দেখে ফেলায় গত ২৭ অক্টোবর নরসিংদীতে চাচী তমুজা বেগম হাত পা বেঁধে সারাশরীরে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে ১৩ বছরের কিশোরী আজিজাকে। ফরিদপুরে মোটর সাইকেল কিনে না দেয়ায় বাবাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে কিশোর মুগ্ধ।  গতমাসে চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পাড়ায় মাছ ব্যবসায়ী রিপনকে হত্যা করে তার বন্ধু মাঈনুদ্দিন। গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় বাবা জুয়েল তার পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে না করায় গুম করে হত্যা করা হয় জুয়েলের পুত্রশিশু আমিনকে। ৫ নভেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যারয়ে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদের জের ধরে গুরুত্বর আহত হন ৫ জন। ৩ নভেম্বর চট্টগ্রামে চলন্ত বাসে পোষাককর্মী ধর্ষণ।
একইদিনে গাজীপুরে পোশাককর্মীকে গণধর্ষণ করার মত জঘন্য ঘটনাও ঘটে। স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা, কিশোর-কিশোরী, পিতা-পুত্র, বন্ধু-বান্ধবী, প্রেমিক-প্রেমিকা ইত্যাদির মধ্যে সামান্য বিবেদ, বিচ্ছেদ,ঝগড়া, কলহের জের ধরেই এ সব হত্যাকান্ড। বিশেষ করে মাতা-পিতার হাতে সন্তান খুনের প্রবনতা ইদানিং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
এই অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে ধর্মহীনতা, অসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব এবং সর্বগ্রাসী অশ্লীলতার মতো আরও কিছু বিষয়। ধর্মহীনতার সংস্কৃতি, ধর্মের অনুশীলন কখনোই ধর্মান্ধতা নির্দেশ করে না বরং ধর্মই পারে ধর্মান্ধতার অভিশাপ মুক্ত করতে। ধর্মই মানুষের জীবন প্রণালী অন্যান্য প্রাণীর থেকে আলাদা করেছে। মানুষকে সভ্য করেছে। আজ ধর্মকে ত্যাগ করে আমরা পুনরায় অসভ্য-বর্বরতার যুগেই ফিরে যাচ্ছি। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আমরা ধর্মকে মনে করি এগিয়ে চলার পথের প্রধান অন্তরায়। ইতিহাস সাক্ষী দেয় প্রতিটি সভ্যতাই গড়ে উঠেছিল কোনো না কোনো ধর্মকে আশ্রয় করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একটি সভ্যতার খোঁজও মেলে না যেটি ধর্মহীনতাকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বালাই নেই সমাজের কোথাও এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটিও দখল করে নিয়েছে ঈর্ষা আর স্বার্থের দ্বন্দ্ব যা আনন্দঘন একটি পরিবেশকেও করে তুলেছে রণক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রেও সন্তানরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অসুস্থ পারিবারিক পরিবেশে সন্তান অস্বাভাবিক মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। সেই সাথে শিক্ষকের ব্যবসায়ী মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠা, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, সুশাসনের অভাব, পারস্পরিক দূরত্ব বৃদ্ধি, দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, সমাজে পেশিশক্তির প্রভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃৃতি। সর্বোপরি লাগামহীন অশ্লীলতাই আজকের তরুণ সমাজকে চরম অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই সর্বগ্রাসী সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। সেই সাথে ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন, পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাসহ সর্বক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে শুধু বর্জনই নয় প্রতিরোধ করা আজ আমাদের সকলের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। যার শুরুটা হতে হবে গৃহাভ্যন্তর থেকেই। এটা সকলেরই মনে রাখা উচিত যে, সামাজিক সমস্যা দূর করতে রাষ্ট্রের সহযোগিতার হয়তো প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু মূল দায়িত্বটি পরিবার তথা সমাজকেই নিতে হয়। সন্তানকে সময় দিন। তাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তার বন্ধুদের জানুন। তাকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিন। শেষ করতে চাই আল্লাহ তায়ালার মহান বাণীটি দিয়ে। “মু’মিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য বেশি পবিত্র পদ্ধতি। যা কিছু তারা করে আল্লাহ তা জানেন। আর হে নবী। মু’মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর হেফাজত করে আর তাদের সাজসজ্জা না দেখায়, যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিন্মোক্তদের সামনে ছাড়া স্বামী, পিতা, স্বামীর পিতা, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজের মেলামেশার মেয়েদের, নিজের মালিকানাধীনদের, অধীনস্থ পুরুষদের যাদের অন্য কোন রকম উদ্দেশ্য নেই এবং এমন শিশুদের সামনে ছাড়া যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। তারা যেন নিজেদের যে সৌন্দর্য লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করে দেবার উদ্দেশ্য সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মু’মিনগণ। তোমরা সবাই মিলে আল্লাহ্র কাছে তাওবা করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে। সূরা আন-নূর
নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে সন্তানদের আদর্শবান নাগরিক ও সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে মরণব্যাধি অবক্ষয় থেকে দেশ, জাতি, সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, চট্টগ্রাম। akterhossain00@yahoo.com

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ