বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
শেখ হাসিনার ‘ফটোজেনিক মেধাবী’ জিনিসটি আসলে কী?  » «   সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে হবে : শিবির সভাপতি  » «   খালেদার বক্তব্য বিকৃত করে রায় দিয়েছেন আখতারুজ্জামান!  » «   একজন ভাষাসৈনিক গোলাম আজম এবং আমার ভাবনা  » «   আগামী বছর নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি  » «   ধনীদের আরো বেশি কর দেয়া উচিত: বিল গেটস  » «   খালেদা ভোটের যোগ্যতা হারালে কিছু করার নেই: কাদের  » «   তারেকের স্ত্রী, কন্যার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনের খবর  » «   খালেদার জামিন আবেদনের আগেই কপি চান অ্যাটর্নি জেনারেল  » «   ব্যাংকে জালিয়াতির কোনো ঘটনায় ছাড় দেয়া হয়নি: তোফায়েল  » «   বাংলাদেশকে কেউ আর অবহেলার সাহস পায় না: প্রধানমন্ত্রী  » «   বাসের ধাক্কায় ৪ অটোযাত্রী নিহত  » «   ২১ গুণীজনকে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ভারতের দুর্ভাগ্য যে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় আছে: মমতা  » «   খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি বৃহস্পতিবার  » «  

মাদরাসা পাঠ্যসূচিতে অশ্লীলতা প্রসঙ্গে

360595_1

ড. মোজাফফর হোসেন:

সম্প্রতি ধৃষ্টতা দেখাতে আরো একধাপ এগিয়ে এসে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে অশ্লীলতা রয়েছে। অথচ কুরআন নাজিলের সময় থেকে আজঅবধি কোনো আলেম-ওলামা কুরআন-হাদিসে অপ্রাসঙ্গিকতার ব্যাপারে প্রশ্ন করার প্রয়োজন মনে করেননি। মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে যে বিষয়গুলোকে অশ্লীলতা বলা হচ্ছে, সে বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা না জানার কারণেই হয়তো অনেকেই এমন বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকেন।

মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে শিষ্টাচার অধ্যায়ে আদব-কায়দা সম্পর্কিত হাদিসগুলো পড়ানো হয়ে থাকে। হাদিসের বিখ্যাত সঙ্কলন বুখারি শরিফেও শিষ্টাচার অধ্যায় রয়েছে। সেখান থেকেই মাদরাসার পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হয়। বুখারি শরিফের এ অধ্যায়ে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয় এবং শিষ্টাচার বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। শিষ্টাচার অধ্যায়ে শেখানো হয়- যেকোনো মানুষের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া সে বাড়িতে প্রবেশ করা অভদ্রতা। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মালিককে ডাকার আগে ছালাম দিতে হয় এবং সে বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করতে হয়, এটি ভদ্রতা। এমনকি নিজের বাড়ির অন্য সদস্যদের ঘরে প্রবেশের আগেও ঘরে অবস্থানরত ব্যক্তির অনুমতি চাইতে হয়। কেননা ঘরে অবস্থানরত ব্যক্তি একা থাকার কারণে নিজের অভ্যাসসুলভ কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতে পারে যা অন্য কেউ দেখুক সেটা সে চায় না। এ অবস্থায় তার ঘরে কেউ প্রবেশ করলে সে ব্যক্তি এবং আগন্তুক উভয়েই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে। এরকম বিব্রতকর অবস্থায় যেন কাউকে পড়তে না হয় সে শিক্ষা এই শিষ্টাচার অধ্যায়গুলোতে শেখানো হয়।

এ প্রসঙ্গে উল্লিখিত হাদিসটি মাদরাসার পাঠ্যসূচিতে রাখা হয়। অথচ এ হাদিসটির উদ্ধৃতিসহ আরো বিষয়ে অভিযোগ টেনে অশ্লীলতার প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। মাদরাসার পাঠ্যবইয়ে অশ্লীলতা এই অজুহাতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বই এনসিটিবিতে আবার নতুন করে ছাপানো হচ্ছে উল্লেখ করে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা খবর দিয়েছে। অজুহাতকৃত হাদিসটি হচ্ছে এরকম- ‘একদা এক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহ সা:কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি আমার মায়ের কাছে (ঘরে) প্রবেশ করতেও অনুমতি প্রার্থনা করব? তিনি (মুহাম্মদ সা:) বললেন, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল, আমি তো তার খাদেম? হজরত রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, তুমি অনুমতি চাও। তুমি কি তোমার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করো?

এ হাদিসে মায়ের প্রসঙ্গ এ জন্য আনা হয়েছে যে, গুরুত্বের এবং সম্মানের দিক থেকে এমনকি সবচেয়ে কাছের মানুষ এবং প্রিয় মানুষ আপনজন হিসেবে মায়ের মর্যাদা সবার উপরে। এমন মানুষের ঘরে প্রবেশ করতে হলেও যদি অনুমতির দরকার পড়ে, তাহলে অন্যদের ব্যাপারে তো আরো কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে; এ শিক্ষার জন্যই হাদিসটির গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসটিতে অশ্লীলতা আছে মনে করার যথেষ্ট কোনো কারণ নেই। (বর্ণিত হাদিসে বিবস্ত্র দেখার আশঙ্কাকে অশ্লীল ধরে নেয়া হয়েছে) মাদরাসা শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকার জন্যই হাদিসটিকে অশ্লীল বলা হচ্ছে।

পত্রিকাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে‘ নবম-দশম শ্রেণীর আল-হাদিস বইয়ের ১৭৯ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে- ‘আক্কেলপুর গ্রামে কাজী ও শেখ বংশের লোকদের মধ্যে দীর্ঘ কলহের পর গতকাল মারামারি হলো’। এখানে শেখ বংশ বলতে না কী বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে বুঝানো হয়েছে, এনসিটিবি সেটিই মনে করছে। উল্লেখ্য, এর আগে বরিশালে দাওয়াতপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপা নিয়ে আপত্তি তুলে বলা হয়েছিল- বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপা হয়েছে। সে জন্য ইউএনও তারিক সালমানকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছিল। পরে তারিক সালমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আক্কেলপুরের শেখ বংশের ব্যাপারটিও সেরকম মনে হতে পারে। যেখানে সেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা যেন অভ্যাসে পরিণত হতে চলেছে। এভাবে বঙ্গবন্ধুর ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ কারা করছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি হতে পারে। আমরা দেখেছি, উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বুশের বিরুদ্ধে লড়ে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন মুসলিমসমাজে বীরত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। সে সময়ে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের নাম রেখেছেন সাদ্দাম হোসেন। এখন সেই সাদ্দাম হোসেনেরা যদি মানবতাবিরোধী কোনো কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার দায় কি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের প্রতি বর্তাবে? কিংবা সাদ্দাম হোসেনকে ছোট করা অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকবে?

বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে সবখানে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে থাকলে মানুষ বিড়ম্বনা এড়াতে একসময় তাদের সন্তানদের নাম মুজিবুর রহমান রাখাও বন্ধ করে দিতে পারে। তারা ভাববে, ছেলে মিথ্যাকথা বললে বঙ্গবন্ধুর অমর্যাদা হয়েছে এই মর্মে কেউ হয়তো ছেলের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করাতে পারে। এই ভয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি আগলে রাখার পরিবর্তে তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে পারে কি না তা ভেবে দেখা যেতে পারে। আসলে যারা আক্কেলপুরের শেখ বংশের দ্বারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, তাদের ব্যাপারে শেখ হাসিনার পরিবারের জন্য সাবধান হওয়া জরুরি মনে করা হলে হালে মঙ্গল হলেও হতে পারে। কেননা ইদানীং এ ব্যাপারগুলো কতকটা আগ বাড়িয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধানোর মতো শোনা যাচ্ছে।

একইভাবে আরেকটি অভিযোগ করা হয়েছে যে, (হাদিস বইয়ে ৩২৮ পৃষ্ঠাতে) ‘প্রথমত, মদকে একটি নেয়ামত ও আকর্ষণীয় পানীয় হিসেবে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে’। এনসিটিবির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, মদ যেখানে ‘হারাম’ সেখানে মাদরাসার পাঠ্যবইয়ে মদের গুণাগুণ বর্ণনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই অভিযোগটি হাস্যকর বলেই মনে হতে পারে। পবিত্র কুরআন শরিফের বহু জায়গাতে মদের ব্যাপারে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে- এর মধ্যে অকল্যাণ রয়েছে।

তবে যারা অবিশ্বাসী তাদের কাছে এই বস্তুটি সুখকর ও প্রিয় বলে মনে হয়। বেহেশতে মোমিনদের জন্য সুস্বাদু পানীয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বেহেশতে যে মদ পরিবেশন করা হবে সেসব মদের বৈষিষ্ট্য ও গুণাগুণ পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। মদ দুনিয়াতে মানুষের জন্য হারাম কিন্তু বেহেশতবাসীদের জন্য সেটি বৈধ করা হবে। তবে যারা জাহান্নামে থাকবেন তাদের জন্য এসবের ব্যবস্থা রাখা হবে না। বেহেশতের মদ আর মানুষের তৈরি মদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে সে বিষয়টিই পরিষ্কার করে বুঝাতে কুরআন শরিফে মদের উল্লেখ রয়েছে। কুরআন-হাদিসের জ্ঞান না থাকার কারণে এসবকে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হচ্ছে, সে কথাও অনুমিত হতে পারে অনেকের কাছেই।

স্ত্রী সহবাসের ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে অনেক পরিষ্কার ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ রয়েছে। মেয়েদের মাসিক এবং সন্তান প্রসবের পরের ধাপে জীবনাচরণ কেমন হতে পারে সে সম্পর্কেও বিশদ আলোচনা কুরআন-হাদিসে পাওয়া যায়। এসব আলোচনাকে বিশ্বের আলেমসমাজ কখনোই অশ্লীল মনে করেননি। এগুলোকে শিক্ষণীয় বিষয় হিসেবে মাদরাসাতে পড়ানো হয়। কুরআন-হাদিস তো মানবজীবনকে পরিচালিত করার বিধিবিধান। জীবন যাপনের জন্য প্রত্যেক মানুষের সেসব বিধিবিধান পাঠের প্রয়োজন রয়েছে। যখন আধুনিক সমাজে ‘এইডস’ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে স্ত্রী সহবাসের ও মেলামেশার পদ্ধতি শেখানোর প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে, তখন এ বিষয়ে কুরআন-হাদিসের শিক্ষাকে অশ্লীল বলে আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ‘এইডস’ থেকে বাঁচার জন্য যে পদ্ধতির কথা বলছে, কুরআনে সে বিষয়টি বর্ণিত হয়ে দেড় হাজার বছর আগে।

অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের মতো কুরআন-হাদিসে ধর্মপ্রচারক হিসেবে কিংবা ধর্মের প্রভুত্বধারী স্ত্রীলিঙ্গের কাউকে পাওয়া যায় না। পবিত্র কুরআনে নবী-রাসূল হিসেবে কোনো নারীর নাম আসেনি। সেদিক থেকে নেতা বা নেতৃত্বের দায় পুরুষদের উপর রয়েছে বলে ইসলাম মনে করে। নামাজের ইমামতি করাও মেয়েদের জন্য শোভনীয় নয়। তাই বলে নারীদেরকে ইসলাম অস্বীকারও করেনি, আবার অসম্মানও করেনি। কুরআন-হাদিস অনুযায়ী বহু স্থানে নারীদের পুরুষের তুলনায় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে পুরোহিত ও দেবী হিসেবে নারী ফিগার থাকলেও সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধীকারকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যায়নি। কুরআন-হাদিসে নেতৃত্বের প্রধান শর্ত হিসেবে পুরুষকেই বেছে নেয়া হয়েছ এবং এর পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণও রয়েছে। কুরআন-হাদিসের এই বিধান পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় থেকে চলে আসছে। এখানে নতুন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে অস্বীকার করা বোঝায় না। যারা নতুন করে কুরআন-হাদিসের এই ব্যাখ্যাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অস্বীকার করাকে বোঝায়, তাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর এখনই সজাগ হওয়া প্রয়োজন রয়েছে।

‘হাসিনা বেগম’ এবং ‘হাসিনা বেগমের’ এই নামকে না কী পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তারা স্পর্শকাতর নাম হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। কেননা যেহেতু পাঠ্যবই কিংবা প্রশ্নপত্রে স্পর্শকাতর নাম ছাপা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা রয়েছে; সে হিসেবে এই নামটি চয়ন করাও স্পর্শকাতর হয়েছে বলে তারা মনে করেন। একটি বিষয় খেয়াল করার রয়েছে যে, মুসলিমদের যত নাম রয়েছে তার বেশির ভাগই আরবি-ফারসি শব্দের। যেমন- আলেয়া, ছালেহা, খালেদা, মরিয়ম, জমিলা, হালিমা, খাদিজা, হাসিনা, জায়েদা, নাসিমা ইত্যাদি। মাদরাসার পাঠ্যপুস্তক তৈরি করতে গেলে উদাহরণ হিসেবে এ নামগুলো ঘুরেফিরে আসবেই।

কারণ কুরআন-হাদিসের ভাষাই আরবি এবং এসব নামের প্রত্যেকটির সুন্দর অর্থও রয়েছে। মুসলিম ছেলেমেয়েরা হাসিনা নামেই পড়াশোনা করবে তাতে দোষের কী আছে। আসলে এমন অভিযোগ তুলে কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও তারা জনগণের কাছে বিতর্কিত করতে চান কিনা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। এবার দেখা যাক কেনো পাঠ্যপুস্তকে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে? এবং বই ছাপার পর আবার নতুন বই তৈরি করা হচ্ছে? যে পত্রিকার প্রধান শিরোনামে বলা হয়েছে ‘মাদরাসার পাঠ্যবইয়ে অশ্লীলতা’ রয়েছে সে রিপোর্টটি পড়লে মনে হতে পারে অযথা এসব অভিযোগ তুলে নতুন করে আবার বই ছাপিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে একটি চক্র হয়তো সক্রিয় রয়েছে এনসিটিবিতে।

গেল বছরও একই অজুহাতে প্রাথমিকের বই সংশোধন করে নতুন করে বই ছাপা হয়েছে। সেই প্রকল্পে সরকারের গচ্চা গেছে কোটি কোটি টাকা। এবার আবার মাদরাসার বই ছাপিয়ে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এনসিটিবিতে এ ব্যাপারে ভালো করে তদন্ত হলে হয়তো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড দেখে মনে হতে পারে, সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে সবাই শিকারে নেমে পড়েছেন। আর একের পর এক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিতর্কে জড়িয়ে দিয়ে পানি ঘোলা করতে চাচ্ছেন, আর সেই ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে ওঁৎপেতে রয়েছেন।

লেখক : গবেষক

উৎসঃ   dailynayadiganta
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ