রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা জাতিসংঘের  » «   এবার উত্তরসহ প্রশ্নফাঁস  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক  » «   যুক্তরাজ্যে দেশজুড়ে পালিত হবে ‘ভিজিট মাই মস্ক’  » «   পুলিশকে গুলি: জড়িতরা যুবলীগ-ছাত্রলীগের  » «   মাধবপুরে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   ড্র করে সিলেটের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ  » «   বিএনপি কেন গণস্বাক্ষর-মানববন্ধনের পথে?  » «   সিলেটের কানাইঘাটে গৃহবধূ খুন, আটক ২  » «   ওবায়দুল কাদেরের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে : রিজভী  » «   দিনবদলের মার্কাই হচ্ছে এরশাদের লাঙল: বাবলা  » «   ফের আলোচনায় ‘কাউয়া’  » «   সৌদি জোটের অবরোধ ‘নিষ্ফল’ : কাতারের আমির  » «   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৮  » «   ‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী’  » «  

শেখ মুজিবও একই অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন

362172_1জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্রে কথিত দুর্নীতি মামলায় দেশের প্রধান বিরোধীদলের নেত্রী ও দুই বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার ৫ বছরের কারাদণ্ড- দিয়েছে সরকারের বিশেষ একটি আদালত। এ মামলায় খালেদা জিয়ার জেল হবে, তাকে কারাগারে যেতে হবেই এমন কথা সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও সরকারদলীয় নেতারা বিগত ২ বছর ধরেই বলে আসছেন। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরও দেখা গেছে সরকারের মন্ত্রীদের দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতের রায়ের হুবহু মিল রয়েছে।

এতদিন খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতারা যে অভিযোগ করে আসছিলেন যে সরকারের নির্দেশনার আলোকেই রায় হবে। বিচারক স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারবেন না। সরকার খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার জন্যই রাজনৈতিক বিচার করছে। বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন বিএনপির এসব অভিযোগ সত্য ছিল।

এদিকে রায়ের পরই আজ আওয়ামী লীগ নেতারা খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আখ্যায়িত করতে শুরু করেছেন। সংসদে আওয়ামী লীগ এমপিরা বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের সমাপ্তি ঘটেছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাতো বরিশালে এক জনসভাতেই বলেছেন-খালেদা জিয়া আজ কোথায়?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সাজাটি একান্তই শেখ হাসিনার ইচ্ছাতে হয়েছে। খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আখ্যায়িত করার লক্ষ্যেই এ মামলায় ৫ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে।

তবে, শেখ হাসিনা আজ খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আখ্যায়িত করলেও অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা গেছে তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানও ১৯৬০ সালে সমাজকল্যাণ মূলক একটি প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের দায়ে একই আইনে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।



ওই মামলার রায়ের কপি থেকে জানা গেছে, পশ্চিম পাকিস্তান গভর্নরের অধীনে পরিচালিত ‘আরবান কমিনিউটি প্রজেক্ট এন্ড ভিলেজ এইড’ প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৬ সালে ৭ সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পান। অর্থ আত্মসাতের দায়ে তিনি ১৯৫৭ সালের ৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন। অর্থ আত্মসাতে তার সহযোগী ছিলেন কাজী আবু নাসের।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই সময় দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ বিধির ৫ (২) ধারায় শেখ মুজিব ও আবু নাসেরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৯৬০ সালে এ মামলার রায়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার রায়ের পর আজ অনেকেই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে শেখ মুজিবের সেই সাজার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে বলছেন, খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলার আগে আপনার বাবার সাজার কথাটা একবার স্মরণ করুন। আপনার বাবা প্রকৃত অর্থেই গ্রামের অসহায় মানুষের টাকা আত্মসাত করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া কোনো টাকা আত্মসাত করেন নি। রাজনৈতিক কারণে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ   অ্যানালাইসিস বিডি
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ