রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা জাতিসংঘের  » «   এবার উত্তরসহ প্রশ্নফাঁস  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক  » «   যুক্তরাজ্যে দেশজুড়ে পালিত হবে ‘ভিজিট মাই মস্ক’  » «   পুলিশকে গুলি: জড়িতরা যুবলীগ-ছাত্রলীগের  » «   মাধবপুরে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   ড্র করে সিলেটের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ  » «   বিএনপি কেন গণস্বাক্ষর-মানববন্ধনের পথে?  » «   সিলেটের কানাইঘাটে গৃহবধূ খুন, আটক ২  » «   ওবায়দুল কাদেরের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে : রিজভী  » «   দিনবদলের মার্কাই হচ্ছে এরশাদের লাঙল: বাবলা  » «   ফের আলোচনায় ‘কাউয়া’  » «   সৌদি জোটের অবরোধ ‘নিষ্ফল’ : কাতারের আমির  » «   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৮  » «   ‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী’  » «  

জাতীয় উন্নয়নে ঐক্য সংলাপ সমঝোতা

download

আনোয়ারুল হক:প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ উর্বর ভূমি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, অফুরন্ত খনিজ সম্পদ, আলো-বাতাস, সৌরশক্তি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় দ্রুত উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত করে রেখেছে। এদেশের বিস্ময়কর উর্বর সমতল ভূমি নদনদী বিধৌত অঞ্চলে স্বাচ্ছন্দ্য জীবনের আকর্ষণে লোকসংখ্যা বৃদ্ধির দ্রুততার ফলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্নীত হয়েছে। পানি সম্পদে সমৃৃদ্ধ দেশের প্রতি পরতে পরতে নাদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওর আর পরিমিত বৃষ্টি আলো-বাতাস বিজলীসহ অনুকূল আবহাওয়া সমৃৃদ্ধশালী উর্বর ভূমিকে কৃষি পণ্য উৎপাদনে প্রাচুর্য এনেছে। সুবিশাল মানব সম্পদ গ্রামের দূষণমুক্ত পরিবেশে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দ্রুত উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত করে রেখেছে। দেশের প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে আছে প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাময় সম্ভার যা কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন ভোক্তার উপযোগ সৃষ্টি করা যায়, তেমনি অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। শাক-সবজিসহ নানান কৃষি পণ্য, মাছ-গোশত-ডিম, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক দ্রব্য, সিরামিক, আসবাবপত্র, হর্টিকালচার, রাসায়নিক দ্রব্য, বস্ত্র, পোশাক, নিটিং, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, ওষুধ ও ভেষজ দ্রব্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সিমেন্ট, ফাস্টফুড ইত্যাদি সস্তা শ্রমের কারণে রপ্তানীর পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।

টুরিস্ট স্পট, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের আছে বৈচিত্র্যের প্রাচুর্র্য সুন্দরবন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সূর্য উদয় অস্তের অবলেকন কেন্দ্র, দৃষ্টিনন্দন পাহাড় ঝরনা ইত্যাদি মিলে পুরো বাংলাদেশকে পর্যটন শিল্পের অনুকুল্য দিয়েছে। কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্বের প্রায় একতৃতীয়াংশ জনগণের আবাস ভূমির মর্যাদা ও সুযোগের ক্ষেত্র হয়েছে। সমতল ভূমি হওয়ার কারণে দেশব্যাপী রয়েছে উত্তম ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাস্তা, নদী, সমুদ্র, রেল ও আকাশ পথে যাতায়াতের নিরাপদ সুযোগ। সস্তা মানব (নর/নারী) সম্পদের সম্ভার দেশ বিদেশে দ্রুত উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে। ক্রান্তীয় বলয়ে অবস্থানের কারণে গড়ে ১১/১২ ঘন্টা আলো, অনুকূল বায়ু প্রবাহ বিশেষকরে উপকূলীয় অঞ্চলকে সৌরশক্তিতে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। বিশ্বের প্রাকৃতিক পোর্ট চট্টলার ও মংলার সমুদ্র বন্দর ভৌগলিক সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে অত্যান্ত সম্ভাবনাময়। এ পোর্ট বাংলাদেশ সহ চীন, ভারত, মায়ানমার, নেপাল ও ভূটানের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণের সুযোগ করে রেখেছে।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বঙ্গোপসাগর বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। সমুদ্রের হালকা/ভারী খনিজ, পানিতে খনিজ, সমুদ্রের তলদেশের মাটিতে, মাটির উপরে, নীচে অফুরন্ত খনিজ দ্রব্য মাবন কল্যাণের অফুরন্ত দ্বার উন্মুক্ত করে রেখেছে। লক্ষ কোটি ডলারের উৎস এ খনিজ সুপ্ত রয়েছে। এতদব্যতিত অজূত সম্ভাবনার প্রানিজ সম্পদ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আহরণের অপেক্ষায় আছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পানিতে রয়েছে স্বর্ণআকরিক। গোটা সৈকত জুড়ে বালিরাশির সাথে মিশে আছে মূল্যবান জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গার্নেট, কায়ানাইট, মোনাজাইট, লিউকক্লি ইত্যাদি ছাড়াও ইনানিতে রয়েছে কালো সোনা। কোটি ডলারের এ সম্পদ আহরণের অপেক্ষায় রয়েছে।

অফুরন্ত ইউনিরিয়াম সমৃৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্পদ এখনো ব্যপক জরিপের অপেক্ষায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ এদেশের কোন সম্পদেরই কমতি নেই। যোগ্যতার সাথে এ সম্পদ ব্যবহারের অপেক্ষায় আছে, যা মানব কল্যাণে নিয়োজিত হলে দেশ উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত হবে। আর এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও স্বদিচ্ছা।

আমাদের দুর্ভাগ্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এদেশের মাটি ও মানুষের জন্য কমই রাজনীতি করেন। তাদের মধ্যে পারস্পারিক সংলাপ, সমঝোতা ও ঐক্যের বড়ই অভাব। এমনকি জাতীয় সংকট মুহূর্তেও তারা এ বিষয়ে কোন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। ২/১টি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই।

এক সময়ে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীত-এতিহ্য-গৌরব কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ দেশের অস্থিতিশীল রাজনীতী। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রের মিডিয়া থেকে ইতিপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েট কে সন্ত্রাসের আঁতুর ঘর শিরোনামের সংবাদ দেশের সচেতন মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। সচেতন মহল মনে করেন পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেশকে পরাশ্রয়ী করদরাজ্য বানানোর সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কাল্পনিক অভিযোগ করে আসছে। সন্ত্রাসবাদ মূলত বৈশ্বিক সমস্যা। এটাকে কোনক্রমেই কোন নিদৃষ্ট ভূখন্ডের চৌহদ্দীর মধ্যে অথবা কোন শিক্ষা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আবদ্ধ করা সমীচীন নয়। অথচ বন্ধু দেশের মিডিয়ায় এমন ভাবে উপস্থাপন করেছে যাতে মনে হয় একমাত্র বাংলাদেশ ও তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসবাদের লীলানিকেতন। অথচ বহু তদন্ত/চেষ্টা করেও আমাদের দেশ ও দেশের কোন প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসবাদে সংযুক্ত পাওয়া যায়নি। তাই সচেতন মহল এ কাল্পনিক অপবাদকে অতীতের বঙ্গভঙ্গ রদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা মনে করছেন।

পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন কোলকাতার হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা। অন্যতম নেতা ছিলেন সর্বজন শ্রেদ্ধেয় নোবেল বিজয়ী কবিগুরু। ইতিহাস হচ্ছে এ মুসলিম বিদ্বেষ প্রসূত কবিগুরু পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। তাঁকে বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি দানে এবং তাঁর ২ বার বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনে বীরোচিত সম্মান দানে আমরা কোন প্রকার কার্পণ্য করিনি। তাই বলে সেই বুদ্ধিজীবীদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই। তাদের কৌশলী নেতৃত্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রকৃত শিক্ষাদানের পরিবর্তে চলছে অবাঞ্চিত কার্যক্রম।

আমাদের জাতীয় গৌরব মেধাবী সন্তানেরা ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, হল দখল, হানাহানি, অশালীন-অসামাজিক কর্মকান্ড, প্রশ্নপত্র ফাস, খুন, যখম, গুম, মদ, জুয়া, ছিনতাই, ধর্ষণ ইত্যাদি কর্মকান্ডে নিয়োজিত। একটি জাতি ধ্বংস করার জন্য তার শিক্ষা আর চরিত্র ধ্বংসই যথেষ্ট। তার সাথে মাদকের সহজ লভ্যতা অধপতন ত্বরান্বিত করবে। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের সম্ভাবনাময় জন সম্পদ বেকার জনসমস্যার সৃষ্টি করেছে। দেশের লক্ষ লক্ষ উচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষিত যুবক যখন চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত তখন ২ লক্ষাধিক বিদেশী নাগরিক উচ্চ বেতনে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রতি বছর ৪০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। শুধু লক্ষাধিক ভারতীয় নাগরিক বৈধ/অবৈধভাবে এদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করায় ভারত বাংলাদেশকে পঞ্চম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দেশের মর্যাদা দিয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া অবৈধভাবে হাজার হাজার বিদেশী নাগরিক কাজ করছে. যারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করছে। অন্যদিকে দেশে ভিন্নমত ও দলের ছাত্রদের নানাভাবে শিক্ষা/উচ্চ শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মাদরাসার সম্ভাবনাময় মেধাবী ছাত্রদের যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। বিনা কারণে ছাত্রাবাস থেকে এমনকি পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়া, ফুটপাতে চলা নিরীহ ছাত্রের হাতে দিয়াশলাই আর পেট্রোলের বোতল দিয়ে সন্ত্রাসী বানানো ইত্যাদি অগণিত প্রতিবন্ধকতায় বহু মেধাবী ছাত্র এবং সম্ভাবনাময় তরুণদেরকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে দেশকে মেধাশূন্য করা হচ্ছে। অথচ তারা বিদেশে গিয়ে সেদেশের অর্থনীতিতে প্রসংশনীয় অবদান রাখছে। দেশে থাকার সুযোগ পেলে তারা দেশ ও জাতির জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারতো।

আমাদের স্বপ্ন ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তোলা। দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ উত্তর উত্তর উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করবে। কিন্তু দুর্ভাগা জীবন, জগত ও মাটির সাথে সম্পর্ক বিহীন অপ্রয়োজনীয় বাস্তবতা বিবর্জিত শিক্ষা কেবল বেকার জন সমস্যা সৃষ্টি করছে। যারা নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য সংকট সৃষ্টি করছে। দুঃখের বিষয় আমাদের গুটিকয়েক বুদ্ধিজীবী এ কর্মকান্ডের মিত্র সেজেছেন। এ অসহনীয় অনাকাক্সিক্ষত অবস্থার অবসানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমঝোতা, সদিচ্ছা এবং জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। কেবলমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত শিক্ষানীতি আল্লাহর দেয়া অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহারের উপায় উদ্ভাবন হবে। মানবকল্যাণ নিশ্চিত হবে। বেকার সমস্যার অবসান হবে। পরনির্ভরতা দূর হবে। আত্মপ্রত্যয়ে উদ্ভাসিত জাতি উন্নতির উচ্চ শিখরে উন্নীত হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্পদশালী পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চল বিপুল সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ, এ অঞ্চল এখনো প্রায় পতিত। অব্যবহৃত জনবসতির ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য তদানীন্তন পাক রাষ্ট্রপতি আইউব খান বাঙ্গালীদের ব্যাপক বসতি স্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছিল বটে যা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী শান্তি চুক্তির নামে উক্ত এলাকার স্বত্বাধিকার থেকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হয়েছে। এটা ছিল ক্ষমতাশীল দলের একক সিদ্ধান্ত। আশ্চার্যের বিষয় হল এ অসম চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপির কোন জোড়ালো আন্দোলন হয়নি। আন্দোলন হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ নিয়ে। জাতি অত্যন্ত উদ্বিগ্নের সাথে লক্ষ করছে যে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকম্যতের কোন তোয়াক্কা করা হয়না। পিলখানা ট্রাজেডি জনমনে গভীর ক্ষত ও রহস্যের সৃষ্টি করেছে। সর্বদলীয় তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হওয়া উচিত ছিল। জনমতের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার একক সিদ্ধান্তে ভারতের স্বার্থে সড়ক, নৌপথ ও বিদ্যুতের করিডোর দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণে জনগণের কষ্টার্জিত বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। জনমতের তোয়াক্কা না করে গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীদের উৎসাহে ট্রানজিডের আড়ালে করিডোর দিয়ে ক্ষমতাসীনরা অনেক কল্পকাহিনী শুনিয়েছে যে ট্রানজিটের বদৌলতে বাংলাদেশে টাকার পাহাড় গড়ে উঠবে। কর্মসংস্থান তথ্য চাকুরির বন্যা বয়ে যাবে ইত্যাদি, করিডোর দেয়ার পর টাকার পাহাড় আর চাকুরির বন্যা দূরের কথা কোন লাভের সুখ দেখার সৌভাগ্য জাতির হয়নি। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন বন্ধু রাষ্ট্রের নিকট ভাড়া চাওয়া লজ্জাজনক। তবে আর কী রক্ষণাবেক্ষণ আমাদেরই কর্তব্য।

দেশের সংকট উত্তরনের প্রধান উপায় সমঝোতার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি এখন ম্লান। যদিও আওয়ামী লীগই প্রথম এরূপ নির্বাচনের কথা বলেছিল। ১লা জানুয়ারি ’১৪ বুধবার ধানমন্ডিস্থ দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরী সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য বর্তমান মহাসচিব ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “বাংলাদেশের অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্রকাঠামো রক্ষার অত্যাবশ্যকীয় তাগিদে ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া বাস্তব সম্মত ও সংবিধান সম্মত কোন বিকল্প নেই। নির্বাচনের পরে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে প্রধান বিরোধীদলসহ সকল নিবন্ধিত দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা নতুন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমার আশা বিরোধীদল প্রধানমন্ত্রির এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিবেন”। ৪ঠা জানুয়ারি ’১৪ সাংবাদিক সম্মেলনে তোফায়েল আহম্মেদ বলেছিলেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোননা কোন সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে হতে পারে। ৩রা জানুয়ারি ’১৪ শুক্রবার অর্থমন্ত্রি আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন নতুন সরকার গঠনের পর বিরোধী দলের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে যে কোন সময় নতুন নির্বাচন করা যেতে পারে। ১৮ ডিসেম্বর ’১৩ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সংসদ ভেঙ্গে দিয়েও সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে। ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে পাশ ও ৫ জানুয়ারি ’১৪ প্রহসনের নির্বাচনের পরম মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র বাম জোট এবং গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীদের সুর পাল্টে যায়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠেনা। সমঝোতার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবর্তে ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন নিরাপদ মনে করছে সরকার। তারা এখন মামলা নির্ভর, ক্রসফায়ার, গণগ্রেফতারসহ চরম দমন নিপিড়নের নীতি গ্রহণ করেছে। দেশে চরম দুর্নীতি মহামারী আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে। সরকার সর্বজন গ্রাহ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দমননীতিকে ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার মনে করছে। তারা এমন নির্বাচন দিতে চায় যাতে ১০০% ক্ষমতায় টিকে থাকার গ্যারান্টি নিশ্চিত হয়। নিজেদের কল্যাণ এবং জাতীয় স্বার্থে এ পথ পরিত্যাগ করে জনগণের প্রত্যাশিত সমঝোতার অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। দেশে কার্যত সরকার পরিচালনায় বিরোধীদলের কোন অংশিদারিত্ব নেই। একদলীয় কায়দায় সরকার পরিচালনের নেতিবাচক প্রভাব জাতিকে চরম সংকটে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ভাষণে গ্রহণযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের আভাস সংবিধানের বরাতে উপস্থাপিত হয়েছে। অথচ সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের ধারনা স্পষ্ট নয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক অবসর গ্রহণের পর এখতিয়ার বহির্ভূত রায় দিয়ে দেশকে কঠিন সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করেন নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আকাশ ছোয়া জনসমর্থন ও জননন্দিত আওয়ামী লীগ নেতাদের কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। জনসমর্থনহীন বাম, জোটের নেতাদের ৫ জানুয়ারি ’১৪ মার্কা নির্বাচন না হলে সমস্যা হতে পারে। তাদের চক্রান্তের কারণে দেশ বার বার সংকটের সম্মুখিন হয়েছে। এরা এক সময়ে জাতির পিতার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি/জুতা বানানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করে জাতিকে কলঙ্কিত করেছে। এদেরই কুটিল ষড়যন্ত্রে বিপদগামী আওয়ামী লীগের ছদ্মবরণে ১৫ আগস্ট ’৭৫ এর করুণ মর্মান্তিক ট্রাজেডি হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রত্যাশা চক্রান্তের প্রাচীর ভেঙ্গে নেত্রী সমঝোতার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে অনিবার্য সংঘাত থেকে দেশকে সুরক্ষা করবেন। এর চেয়ে কঠিন সমস্যা জাতির পিতা অতি সহজে সমাধান করেছেন। দেশের স্বার্থে কারো অনুরাগ-বিরাগের তোয়াক্কা করেননি। যেমন ১৯৭১ সালে কোলকাতায় অবস্থানরত প্রবাশী সরকার ভারতের সাথে চীর দাসত্বের ৭ দফা চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে জাতির পিতা দেশের মাটিতে পদার্পণ করে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে এ দ্বাসত্ব চুক্তি বাতিল করেছেন। শুধু তাই নয় ঘৃণাভরে কখনো মুজিব নগরে প্রবেশ করেনি। তাঁর এ রাষ্ট্রনায়কচিত আচরণের কারণেই তাঁর চার পাশে অবস্থানরত স্বার্থানেশী মহলের হাতে মর্মান্তিকভাবে স্বপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে। জাতির প্রত্যাশা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির কল্যাণে স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা অগ্রাহ্য করে বিরোধী দলের সাথে সংলাপের মাধ্যমে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেবেন।

আমরা যখন বৃটিশ ভারতকে প্রত্যাখ্যান করি এবং আধা-উপনিবেশ পাকিস্তানকে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখি তখনও আমাদের অগ্রযাত্রার পথ কুসুমান্নিত ছিলনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্য কালের বিবর্তনে সে ঐক্যের স্বপ্ন বেশি দিন টিকেনি। দেশের কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বিভেদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দলের পক্ষ নিতে গিয়ে বৃহত্তর জনতাকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করেছেন। ফলে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে উদার মন নিয়ে সংকীর্ণতার অবশনের জন্য কাউকে না কাউকে বড় চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ঐক্য, সংলাপ, সমঝোতা ও শান্তির কথা বলতে হবে। দেশ ও জাতি সে জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, আল্লাহ আমাদের সহায় হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ