রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা জাতিসংঘের  » «   এবার উত্তরসহ প্রশ্নফাঁস  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক  » «   যুক্তরাজ্যে দেশজুড়ে পালিত হবে ‘ভিজিট মাই মস্ক’  » «   পুলিশকে গুলি: জড়িতরা যুবলীগ-ছাত্রলীগের  » «   মাধবপুরে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   ড্র করে সিলেটের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ  » «   বিএনপি কেন গণস্বাক্ষর-মানববন্ধনের পথে?  » «   সিলেটের কানাইঘাটে গৃহবধূ খুন, আটক ২  » «   ওবায়দুল কাদেরের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে : রিজভী  » «   দিনবদলের মার্কাই হচ্ছে এরশাদের লাঙল: বাবলা  » «   ফের আলোচনায় ‘কাউয়া’  » «   সৌদি জোটের অবরোধ ‘নিষ্ফল’ : কাতারের আমির  » «   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৮  » «   ‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী’  » «  

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ঃ আওয়ামী লীগের সামনেও কঠিন চ্যালেঞ্জ

362503_1

কঠোর থাকবে সরকার – পরিস্থিতি যাই হোক বিএনপিকে চাপে রাখার অবস্থান থেকে সরছে না সরকার। খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দলীয়ভাবে বিএনপিকে ছাড় না দেয়ার অবস্থানে অটল তারা।

নির্বাচনী বছরে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদ-ের পর একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। কেননা এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ফের দেশে-বিদেশে বড় ধরনের আস্থা সংকটে পড়বে। এ অবস্থায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে আওয়ামী লীগকেই ছাড় দিতে হতে পারে।

উলেস্নখ্য, সংসদ বহাল থাকলে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এরমধ্যে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার জেল হওয়ায় তাদের এ অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরম্নল হুদা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তা অংশগ্রহণমূলক হবে না।

আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদ বহাল রেখেই অংশগ্রহণমূলক এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বিভিন্ন সময় বলেছেন, আগামী নির্বাচন দশম সংসদের মতো হবে না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং চ্যালেঞ্জিং হবে। সে অনুযায়ী দলীয় নেতাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তিনি।

কিন্তু আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ না নেয় তাহলে ফের আওয়ামী লীগ সংকটে এবং আন্ত্মর্জাতিক চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা দলটির নেতাদের। নানা কৌশলে দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেয়াতে চেষ্টা করা হলেও তাতে কাজ না হওয়ায় চিন্ত্মিত ক্ষমতাসীন নেতারা। ফলে সর্বশেষ আন্ত্মর্জাতিক চাপ সামলাতে এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য সরকার গঠনে নিজেদের স্বার্থেই বিএনপিকে ছাড় দিতে হবে, তা না হলে নিজেদের ক্ষতি হবে বলেই আশঙ্কা করছেন নেতারা।

আবার সংগঠনের অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দল, নেতাকর্মীদের নানা অপকর্ম, সাংসদের সঙ্গে জনগণ এবং সংগঠনের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও রয়েছে প্রতিবন্ধকতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে আওয়ামী লীগের চাপ আরও বেড়ে যাবে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর অনেক চাপ থাকলেও অনেক চেষ্টার পর তা অতিক্রম করা গেছে। কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে দুর্ঘটনার শঙ্কাই বেশি থাকে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, যদি প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে বর্তমান সংসদের প্রায় অর্ধেক সাংসদ পরাজিত

হহবেন বলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। সে কারণে আগামী নির্বাচনে প্রায় একশ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর একজন সদস্য যায়যায়দিনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা করার কারণে অনেক রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারা আগে যেখানে বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে সোচ্চার ছিল বর্তমানে তারা পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এটা সরকারের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপি যদি না আসে তাহলে সরকার আবারও চাপে পড়ে যাবে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেস্নষকরা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সরকার আরও এক ধাপ পিছিয়ে গেল। এমনিতেই বিএনপির উপর সরকারের নির্যাতনের কারণে তারা নির্বাচনবিমুখ। গতবার যে কারণে তারা নির্বাচন বর্জন করেছে এবারও সরকারের সঙ্গে একই কারণে তাদের মতানৈক্য।

বর্তমানে যেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থানের দূরত্ব কমিয়ে সমঝোতা দরকার ঠিক সে সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে ৫ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। এতে দুই দলের দূরত্ব আরও বেড়ে গেছে। ফলে আগামী নির্বাচনও শঙ্কার মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক নুরম্নল আমিন ব্যাপারি যায়যায়দিনকে বলেন, খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথও আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। একদল ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে, আরেক দল জেলে থেকে তাদের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নেবে এমনটি ভাবা বোকামি। বর্তমানে সরকারের যে মনোভাব এতে সংকট আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য অনেক দেশে এমনও হয়েছে বিরোধী দলের নেতাকে জেল থেকে মুক্ত করা হয়েছে, মামলা খারিজ করা হয়েছে। আর বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতাকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। এতে দুই দলের দূরত্ব কমানোর সুযোগও নষ্ট হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যায়যায়দিনকে বলেন, বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন কোনো দেশেই গ্রহণযোগ্য হয় না। বিএনপি ছাড়া গত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি তা তারা শুরম্ন থেকেই বলে আসছেন, এখনও বলছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যেখানে সংলাপ প্রয়োজন সেখানে বিরোধী দলীয় নেতার জেলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণ হবে কিনা তা এখনো বলার সময় আসেনি। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিন্তু ক্ষমতাসীনদের মনোভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে তারা চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক।

বিশেস্নষকরা আরও বলেন, আগামী নির্বাচন যেমন অংশগ্রহণ হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

কঠোর থাকবে আ’লীগ

তবে পরিস্থিতি যাই হোক বিএনপিকে চাপে রাখার অবস্থান থেকে সরছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের বিরম্নদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দলীয়ভাবে বিএনপিকে ছাড় না দেয়ার অবস্থানেই থাকছে শাসক দল।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে দল ও সরকারের এমন মনোভাবের কথাই জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকার কারণে সরকার পরিচালনায় ‘অহেতুক’ সমস্যা এড়ানো গেছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই বিএনপির চেয়ারপারসনের কারাগারে যাওয়ার মতো বড় ঘটনার পরও বিএনপি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। সহিংস ও নাশকতা থেকে দূরে রয়েছে।

বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের মূল্যায়ন হলো, দলটি এখন ভেতর-বাইরে চাপে আছে। এ কারণে কঠোর অবস্থান না নিয়ে দলটি ‘ধীরে চলো নীতি’ নিয়েছে। এই নীতি নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির যেসব বিবেচনা কাজ করেছে তা হলো, বিএনপি বুঝতে পেরেছে তারা গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছে, সেই নির্বাচন ঠেকাতে এবং পরে সরকার পতনে সহিংসতার পথে গিয়ে অযথা শক্তিক্ষয় হয়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে। এবার যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, দলটি নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ কোনোমতেই ছাড়বে না। নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগে অযথা সহিংসতার পথে গিয়ে শক্তিক্ষয় তাদের লক্ষ্য নয়।

বিএনপি সম্পর্কে এখনকার মূল্যায়ন হলেও আওয়ামী লীগ মনে করে, বিএনপি সময় বুঝে কঠোর হতে পারে। আর আওয়ামী লীগের ‘নূ্যনতম নমনীয়’ অবস্থানকে ‘দুর্বলতা’ দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে।

আওয়ামী লীগ কি বিএনপির ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে থাকবে? এই প্রশ্নের জবাবে দলটির সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারম্নক খান বলেন, এখানে শক্ত বা নরম পথ বলে কিছু নেই। বিএনপি তার কর্মকা-ের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছে, তারা সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা ২০১৫ সাল পর্যন্ত্মও জ্বালাও-পোড়াও করেছে, পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। সেখানে একটি সরকার জনগণের জন্য যা প্রয়োজন, তা-ই করবে। ফারম্নক খানের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আপনি ভাংচুর করবেন, মানুষ মারবেন আর বুক ফুলিয়ে চলবেন, তা হবে না। আওয়ামী লীগ বা সরকার সেটা হতে দেবে না।’

ফারম্নক খান বলেন, যেসব মামলা খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে আছে, সেগুলো তাদের গতিতে চলবে। এসব আদালতের বিষয়। আর পৃথিবীর সবদেশের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেসব কাজ করে, তা-ই করবে আওয়ামী লীগ সরকার।

জানা গেছে, আইনি পন্থায় বিএনপিকে চাপে রাখার প্রক্রিয়া শুধু জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলাতেই শেষ হচ্ছে না; খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে থাকা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানিও শেষ পথে। এরপর আছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা। সেই মামলার অন্যতম আসামি তারেক রহমান।

খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান লন্ডনে- এমন পরিস্থিতি কি শাসক দলের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে? প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাড়তি কোনো সুবিধা নেয়ার অভিপ্রায় নেই। তবে দুর্নীতির দায়ে কারাদ- পাওয়া কোনো দলীয় প্রধানকে নিশ্চয়ই জনগণ পছন্দ করবে না। জনগণ আমাদের কাজকেই মূল্যায়ন করবে।’

উৎসঃ   যায়যায়দিন
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ