রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশা জাতিসংঘের  » «   এবার উত্তরসহ প্রশ্নফাঁস  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক  » «   যুক্তরাজ্যে দেশজুড়ে পালিত হবে ‘ভিজিট মাই মস্ক’  » «   পুলিশকে গুলি: জড়িতরা যুবলীগ-ছাত্রলীগের  » «   মাধবপুরে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   ড্র করে সিলেটের প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ  » «   বিএনপি কেন গণস্বাক্ষর-মানববন্ধনের পথে?  » «   সিলেটের কানাইঘাটে গৃহবধূ খুন, আটক ২  » «   ওবায়দুল কাদেরের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে : রিজভী  » «   দিনবদলের মার্কাই হচ্ছে এরশাদের লাঙল: বাবলা  » «   ফের আলোচনায় ‘কাউয়া’  » «   সৌদি জোটের অবরোধ ‘নিষ্ফল’ : কাতারের আমির  » «   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৮  » «   ‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী’  » «  

দেশীয় অর্থায়নে শুরু হবে ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক

car lenচীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না হারবার এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে শুরু হবে ঢাকা-সিলেট চার লেনের কাজ। এরই অংশ হিসেবে গত ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ডিপিপি সওজ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নতুন এই প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে ‘ঢাকা (কাঁচপুর)–সিলেট মহাসড়ক উভয় পার্শ্বে পৃথক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ’।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম শাহিদা খানম জানান, ঢাকা-সিলেট চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প থেকে চীনের অর্থায়ন বাদ গেছে। আমরা দেশীয় অর্থায়নেই এটা বাস্তবায়ন করব। সেই অনুযায়ী ডিপিপি প্রস্তুত করেছি।

নতুন এই প্রকল্পের ২১৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করবে সরকার সেখানে চায়না হারবার কোম্পানির তৈরি করার কথা ছিল ২২৬ কিলোমিটার সড়ক। সড়ক ও মহাসড়ক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ সাধার করণে চীনের এই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে সরকার। যার কারণেই ঢাকা-সিলেট চার লেনে উন্নীত করার কাজটা আর তাদের কাছে থাকছে না। পরে সেই অর্থ ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবং এই প্রকল্প থেকে চীনের সকল সম্পৃক্ততা তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

চার লেন নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৪১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের।  প্রকল্পটি এপ্রিল ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ মধ্যে সম্পন্ন করতে চায় সরকার।

নতুন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৯৮৬ দশমিক ৪৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। যার জন্য ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। স্থানান্তর করতে হবে কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ইউটিলিটি। নতুন পরিকল্পনায় চারটি ফ্লাইওভার, ১০টি আন্ডারপাস, ৪২টি ফুটওভার ব্রিজ, তিনটি ট্রাক স্ট্যান্ড এবং দু’টি রেস্ট হাউজ থাকবে সড়টিতে। তাছাড়া মূল সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মিত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাঁক সরলিকরণসহ অধিকমাত্রার ট্রাফিক বিবেচনায় এনে ৮০ কিলোমিটার গতিবেগ নিশ্চিতকরণ করা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

‘শিল্প ও বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে এশিয়া হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) করিডোর, দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে চার লেনটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষনা দিয়েছেলেন যে পদ্মা সেতুর মতো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজও হবে সরকার নিজস্ব অর্থে।

সেদিন অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিদেশি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এক সময় আমাদের জিডিপির একটা বড় অংশই থাকত ফরেন এইড। এখন সেটা কমে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আমাদের নিজস্ব সম্পদ বেড়েছে। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছি। আর সে কারণেই আমরা পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন করছি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এর কাজও আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থে করব।”

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ সংবাদ